ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
দেশে ব্যাটারিচালিত রিক্সার জন্য আসছে নতুন বিধিমালা
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১৮ আগস্ট:
ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় ই-রিকশার বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, নির্ধারিত রুট এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারসহ একাধিক শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।
সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক পর্যালোচনা সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশা নিবন্ধন করবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা। এসব যানবাহনের নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক করা হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগ থেকে এই সনদ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শুধু ফিটনেস থাকলেই নিবন্ধন মিলবে না। সরকারের পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হচ্ছে—ই-রিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করা হলে সেই যান নিবন্ধন বা পরবর্তী সময়ে নবায়নের সুযোগ পাবে না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ওপর। একই সঙ্গে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি এবং ফিটনেস সনদের জন্য নির্ধারিত ফি সরকার ঠিক করে দেবে।
ঢাকায় আট জোন, আট রঙ
শুধু নিবন্ধনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের পরিকল্পনা। ঢাকার ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাজধানীকে আটটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনে চারটি করে মোট আটটি জোন থাকবে।
প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য থাকবে আলাদা রং। ফলে কোন রিকশা কোন এলাকার, তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এক জোনের ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে ঢুকতে না পারে, সে জন্য জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
নতুন ব্যবস্থায় কোন ই-রিকশা কোন রুটে চলতে পারবে এবং কোন রুটে চলতে পারবে না, সেটিও বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত নিয়ম ভেঙে সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করলে জরিমানার বিধান রাখার কথাও বলা হয়েছে।
দ্রুত কার্যকরের প্রস্তুতি
সরকার বলছে, ই-রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
বিধিমালা চূড়ান্ত হলে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ যৌথভাবে এর বাস্তবায়নে কাজ করবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিধিমালা প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বর্তমানে চলাচলরত বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা, সৌরবিদ্যুতে চার্জ দেওয়ার অবকাঠামো এবং জোনভিত্তিক চলাচল নিশ্চিত করা—সব মিলিয়ে বাস্তবায়ন কতটা সহজ হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।