ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
১৮০ দিনের হিসাব-নিকাশ, মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের জল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৮ আগস্ট:
সরকারের প্রথম ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কে কতটা সফল হয়েছেন, কোন মন্ত্রণালয়ে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে—এসবের হিসাব এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ছয় মাসের কাজের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা হয়েছে। এসব প্রতিবেদন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং মন্ত্রীদের সার্বিক কর্মদক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে চলতি আগস্টেই সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে আপাতত বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা কম। আলোচনায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং এক-দুজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়টি।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘিরে। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে।
দলীয় ও সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় বলা হচ্ছে, মির্জা ফখরুলের স্থলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সে ক্ষেত্রে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এসব পরিবর্তন এখনো চূড়ান্ত নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করছেন। ১৮০ দিনের কর্মসূচি তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলে কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, মন্ত্রণালয়ের বাস্তব কাজের অগ্রগতিকেও রদবদলের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার চিন্তা চলছে।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য নতুন মুখদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থকে যুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শামীম কায়সার লিংকনের নামও ঘুরছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এসব সম্ভাব্য পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা সামনে রেখে মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন। সেই সময় থেকে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর এখন সেই তথ্য একত্র করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
একজন মন্ত্রীর ভাষ্য, প্রতি মাসেই মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ছয় মাসের সামগ্রিক প্রতিবেদনও জমা হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।
ফলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যতই আলোচনা থাকুক, শেষ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতেই। এখন মূল প্রশ্ন—১৮০ দিনের পরীক্ষায় কোন মন্ত্রণালয় কতটা নম্বর পেল এবং সেই মূল্যায়নের ফলেই কি আগস্টে দেখা যাবে মন্ত্রিসভার নতুন বিন্যাস?