গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়: ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ, ৬০ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ

গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়: ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ, ৬০ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট:   দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত হয় এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর শপথ পাঠ করান। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্যসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা।

আন্তর্জাতিক উপস্থিতি

শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসা

৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা, সঙ্গে ১০ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে—২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এর বাইরে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় ৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ৫ জন উপদেষ্টা নিয়োগ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন ৬০ জন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ৪০ জনই প্রথমবারের মতো মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পেয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলেন যে ৬০ জন : 

প্রধানমন্ত্রী

১. তারেক রহমান — প্রধানমন্ত্রী

অতিরিক্ত যেসব মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী: প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়। 

পূর্ণমন্ত্রী 

২. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
৩. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী — অর্থ ও পরিকল্পনা
৪. সালাহউদ্দিন আহমেদ — স্বরাষ্ট্র
৫. ইকবাল হাসান মাহমুদ — বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ
৬. মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ — মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক
৭. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন — মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ
৮. ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) — পররাষ্ট্র
৯. আব্দুল আউয়াল মিন্টু — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
১০. মিজানুর রহমান মিনু — ভূমি
১১. নিতাই রায় চৌধুরী — সংস্কৃতি
১২. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান — আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক
১৩. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ — ধর্মবিষয়ক
১৪. আরিফুল হক চৌধুরী — শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ
১৫. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির — বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট
১৬. জহির উদ্দিন স্বপন — তথ্য ও সম্প্রচার
১৭. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি — পানিসম্পদ
১৮. আ ন ম এহছানুল হক মিলন — শিক্ষা
১৯. মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট) — কৃষি, মৎস্য, খাদ্য
২০. আফরোজা খানম (রিতা) — বেসামরিক বিমান ও পর্যটন
২১. আসাদুল হাবিব দুলু — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ
২২. জাকারিয়া তাহের — গৃহায়ন ও গণপূর্ত
২৩. দীপেন দেওয়ান — পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক
২৪. সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন — স্বাস্থ্য
২৫. ফকির মাহবুব আনাম — ডাক, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি
২৬. শেখ রবিউল আলম — সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন

প্রতিমন্ত্রী 

২৭. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
২৮. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
২৯. মো. শরীফুল আলম
৩০. শামা ওবায়েদ ইসলাম
৩১. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
৩২. ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
৩৩. ফরহাদ হোসেন আজাদ
৩৪. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)
৩৫. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
৩৬. হাবিবুর রশিদ
৩৭. মো. রাজিব আহসান
৩৮. মো. আব্দুল বারী
৩৯. মীর শাহে আলম
৪০. মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি
৪১. ইশরাক হোসেন
৪২. ফারজানা শারমীন
৪৩. শেখ ফরিদুল ইসলাম
৪৪. মো. নুরুল হক নূর
৪৫. ইয়াসের খান চৌধুরী
৪৬. এম ইকবাল হোসেইন
৪৭. ডা. এম এ মুহিত
৪৮. আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর
৪৯. ববি হাজ্জাজ
৫০. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম

উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা

৫১. মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ
৫২. নজরুল ইসলাম খান
৫৩. মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ
৫৪. রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
৫৫. ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা

৫৬. হুমায়ুন কবির
৫৭. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম
৫৮. ডা. জাহেদুর রহমান
৫৯. ড. মাহ্দী আমিন
৬০. রেহানা আসিফ আসাদ

সংসদ সদস্যদের বিশেষ ঘোষণা

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের সময় ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা প্রথাগত বিশেষ সুবিধা—শুল্কমুক্ত গাড়ি, রাজউকের প্লট বা ফ্ল্যাট—গ্রহণ করবেন না। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এটি জনগণের প্রতি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতীকী ঘোষণা।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

বিএনপি চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা অংশ নেন। বৈঠকে সরকারের নীতি-অগ্রাধিকার ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ: অনাচার-অনিয়মের সিন্ডিকেট ভাঙার অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। রমজানে অতিরিক্ত মুনাফা না করে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীদের প্রতি। একই সঙ্গে বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ ও অভিযোগ শুনতে প্রস্তুত।

রমজানে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি অপচয় রোধ ও কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।