বাংলােদেশ সংবাদ
মঞ্চের নায়ক থেকে দেশের রাষ্ট্রনায়ক: মির্জা ফখরুল হলেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২১ আগস্ট:
একসময় মঞ্চে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। নাটক পরিচালনাও করেছেন। কবিতা আবৃত্তি করেছেন, ক্রিকেট খেলেছেন। তারপর শ্রেণিকক্ষে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। সরকারি চাকরি করেছেন। পৌরসভার চেয়ারম্যান হয়েছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে মহাসচিব হয়েছেন।
রাজনীতির সেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৩৪৩টি বৈধ ভোটের বাইরে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলো।
আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথ পড়াবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

ঠাকুরগাঁওয়ের মঞ্চে যে গল্পের শুরু
রাষ্ট্রপতি ভবনের আনুষ্ঠানিকতা, সংসদের ভোট কিংবা দলীয় রাজনীতির অনেক আগে মির্জা ফখরুলের পরিচয় ছিল অন্যরকম। ছাত্রজীবনেই ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নাট্যজন ফণী ভূষণ পালিতের কাছে তাঁর নাট্যচর্চার হাতেখড়ি।
মঞ্চে অভিনয় করেছেন, নাটক পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় দুই অভিনেতা নায়ক রহমান ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একই মঞ্চে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নায়ক রহমান ছিলেন তাঁর মামাতো ভাই। ‘স্পেন বিজয়ী মুসা’ নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে স্কুল জীবনে ব্যাপক সুনাম কুড়ান তিনি। ঠাকুরগাঁও হাইস্কুলে অত্যন্ত মঞ্চসফল ঐতিহাসিক এ নাটক তাকে সে সময় ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বত্র পরিচিতি এনে দেয়। ঠাকুরগাঁওয়ে যখন নবনাট্য আন্দোলনের সূচনা হয় সেই সময় ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির মঞ্চে অভিনীত অনেক নাটকে অংশ নিয়েছিল মির্জা আলমগীর। আর সেসব নাটকে তার অভিনয় নৈপুণ্য দর্শকদের মুগ্ধ করতো।
ক্রীড়াঙ্গনেও তার ছিল উজ্জ্বল উপস্থিতি। ক্রীড়া সংগঠন ছাড়াও ছিল ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রিকেট দলের এক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। ব্যাট হাতে মাঠে বলকে সীমানা পার করতো।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সাংস্কৃতিক জীবনের কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, শিক্ষকতা, নাট্যচর্চা ও রাজনীতির মধ্যে সাংস্কৃতিক জগতই তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য ছিল। কবিতা আবৃত্তিতেও তাঁর আগ্রহ ছিল; ‘ইত্যাদি’র এক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করেও শোনান তিনি।
অর্থাৎ বঙ্গভবনের পথে তাঁর প্রথম মঞ্চটি ছিল রাজনীতির নয়—ছিল নাটকের।
ছাত্ররাজনীতির উত্তাল সময়
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক বোধ তৈরি হয় ষাটের দশকের শেষ দিকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সংগঠনটির এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তখন দেশের রাজনীতি উত্তাল; স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ রাজপথে। সেই সময়ের আন্দোলন তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
এখানেই মঞ্চের অভিনয় আর বাস্তব রাজনীতির দুটি আলাদা অভিজ্ঞতা এক তরুণের জীবনে পাশাপাশি চলতে শুরু করে।
শিক্ষকতার শ্রেণিকক্ষ থেকে সরকারি দায়িত্ব
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা শুরু করেন। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
শিক্ষকতার জীবন অবশ্য স্থায়ী হয়নি।
১৯৭৯ সালের শেষ দিকে তিনি তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে সরকারি রাজনৈতিক প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতা নেওয়ার পর এস এ বারী পদত্যাগ করলে মির্জা ফখরুল আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।
কিছুদিন পর সেই শিক্ষকতাও ছেড়ে দেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
পৌর চেয়ারম্যান হয়ে রাজনীতির মাঠে
সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আগে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয় স্থানীয় সরকারে।
১৯৮৮ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
পৌরসভার স্থানীয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে তিনি উঠে আসেন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় অঙ্গনে।
সংসদে প্রথম সাফল্য, মন্ত্রিসভায় প্রবেশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমদিকে তাঁর ভাগ্য সহায় হয়নি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি।
তৃতীয়বার ২০০১ সালের নির্বাচনে সফল হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল।
খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
তাঁর প্রশাসনিক জীবনের এই পর্যায় তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তোলে।
নির্বাচনে হার, কিন্তু দলে উত্থান
২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হন।
কিন্তু নির্বাচনী পরাজয় তাঁর দলীয় রাজনৈতিক উত্থান থামাতে পারেনি।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে তিনি গণমাধ্যমে নিয়মিত বক্তব্য দিতে থাকেন।
২০১১ সালে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়।
এরপর ২০১৬ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ সময় বিএনপির মুখ
বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুলের সময়কাল ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থানের সময় দলের প্রকাশ্য নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন তিনি।
প্রায় ১৬ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এই সময়ে দলের আন্দোলন, নির্বাচন, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি—প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাঁকে সামনে দেখা গেছে।
বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছেন একাধিকবার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে ছয়বার কারাগারে যেতে হয়েছে বলে সাম্প্রতিক জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১২ থেকে ২০১৫ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় একাধিকবার কারাবরণ করেন তিনি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগে তাঁর গ্রেপ্তার এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরের রাজনৈতিক কর্মসূচির পর গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত অধ্যায়।
বয়স ও শারীরিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেছেন। রাজপথের সংঘাত, মামলা ও কারাবাসের মধ্যেও বিএনপির অন্যতম স্থির ও ধীরস্থির নেতার ভাবমূর্তি তৈরি করেন।
সংসদ সদস্য, মন্ত্রী—আবার দলের মহাসচিব
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি একই সঙ্গে সংসদীয় রাজনীতি ও দলীয় সংগঠনের ভেতর দিয়ে এগিয়েছেন।
২০০১ সালে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত হলেও বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন হয়।
এর ফলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্র সংসদ থেকে আবারও দলীয় নেতৃত্বেই ফিরে যায়।
পারিবারিক রাজনীতিরও উত্তরাধিকার
মির্জা ফখরুলের রাজনীতিতে আসার পেছনে পারিবারিক পরিবেশেরও প্রভাব ছিল।
তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার। আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের ডাইরেক্টোরেট অব ইয়ুথ ক্যাম্পের পরিচালক ছিলেন।
অর্থাৎ তাঁর পরিবারে একদিকে ছিল রাজনীতি, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অভিজ্ঞতা।
ব্যক্তি মির্জা ফখরুল
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহিত। তাঁদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।
রাজনীতির বাইরে তাঁর সাংস্কৃতিক পরিচয়টিও উল্লেখযোগ্য। নাটক, আবৃত্তি ও খেলাধুলার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এসেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথটি অবশ্য তাঁর জন্য সরল ছিল না। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর বিএনপি তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রার্থী হওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে তিনি জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
মঞ্চ থেকে বঙ্গভবন
মির্জা ফখরুলের জীবনকে যদি কয়েকটি শব্দে সাজাতে হয়, তাহলে সেই তালিকায় থাকবে—নাট্যকর্মী, ছাত্রনেতা, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, বিরোধী দলের মুখ, বিএনপির মহাসচিব এবং এখন রাষ্ট্রপতি।
জীবনের শুরুতে তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্যের লেখা সংলাপ উচ্চারণ করেছেন। পরে শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি পড়িয়েছেন। রাজনীতিতে এসে রাজপথে বক্তব্য দিয়েছেন, আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন।
এবার তাঁর সামনে আরেক মঞ্চ—বঙ্গভবন।
সেখানে কোনো নাটকের চরিত্র নয়, তাঁকে পালন করতে হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব।
মঞ্চের আলো থেকে রাজনীতির রাজপথ, আর রাজপথ পেরিয়ে বঙ্গভবন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই দীর্ঘ যাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়।