কমিউনিটি নিউজ
নিউহ্যামে গাড়ির ভেতর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, ঘাতক ধরতে তল্লাশি
কমিউনিটি ডেস্ক, ২০ আগস্ট:
পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামে গাড়ির ভেতর গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের নাম মাসুম মিয়া। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কারিকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আমির আলীর বড় ছেলে।
মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ভোররাতে নিউহ্যামের ইস্ট হ্যাম এলাকার সেন্ট বার্থোলোমিউ’স রোডে গুলির ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গুলির শব্দের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে একটি গাড়ির ভেতর ওই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও লন্ডন’স এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীদের চেষ্টার পরও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা তাঁদের সহায়তা করছেন। হত্যাকাণ্ডের পর সেন্ট বার্থোলোমিউ’স রোডের একটি অংশ ঘিরে রেখে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহসহ তদন্ত চালানো হয়। এলাকাটিতে পুলিশের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পুলিশ ভোর ৪টার দিকে তাঁদের বাসায় গিয়ে প্রথমে জানতে চায়, সেটি মাসুম মিয়ার বাড়ি কি না। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাঁর ছবি দেখতে চায়। ছবি দেখে কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্যদের জানান, তিনি গুলিতে নিহত হয়েছেন।
মাসুমের ছোট ভাই মানিক উদ্দিন জানান, তাঁর ভাইয়ের হত্যার কারণ বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, সে বিষয়ে পরিবারকে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি। মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মাসুম মিয়া যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে আসতেন। তাঁর আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর বাবা ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা যুক্তরাজ্যেই বসবাস করেন।
লন্ডনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তিকে ৪০-এর কোঠায় একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি স্থানীয় লন্ডনভিত্তিক ক্রাইম রিপোর্টে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তাঁর নাম মাসুম আহমেদ, বয়স ৪০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম বা বাংলাদেশি পরিচয় প্রকাশ করেনি।
তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর ড্যান হুইটেন। তিনি নিহত ব্যক্তির পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কী ঘটেছিল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা বের করতে তদন্তকারীরা কাজ করছেন।
পুলিশ এখনো হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। নিহত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়েছিল কি না, নাকি ঘটনাটি অন্য কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে—সেটিও পরিষ্কার নয়।
২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। কারও কাছে ঘটনার ভিডিও, ড্যাশক্যাম ফুটেজ বা অন্য কোনো তথ্য থাকলে তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পুলিশের কাছে তথ্য দিতে ১০১ নম্বরে ফোন করে CAD797/18AUG রেফারেন্স উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। চাইলে পরিচয় গোপন রেখে স্বাধীন সংস্থা Crimestoppers-এর মাধ্যমেও তথ্য দেওয়া যাবে।
মেট পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এখনো হত্যার পেছনের কারণ, গুলি চালানো ব্যক্তির পরিচয় কিংবা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।