ব্রিটেন সংবাদ
জিসিএসইতে ফেল করলেই বারবার পরীক্ষা নয়, নতুন পদ্ধতির ভাবনা ব্রিটিশ সরকারের
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২১ আগস্ট:
ইংল্যান্ডে জিসিএসই পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত গ্রেড না পাওয়া শিক্ষার্থীদের বারবার একই পরীক্ষা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিক্ষা নেতারা বলছেন, এই ব্যবস্থা অনেক শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিচ্ছে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।
২০২৬ সালের জিসিএসই ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার Year 11 শিক্ষার্থী ইংরেজি, গণিত অথবা উভয় বিষয়ে গ্রেড ৪ অর্জন করতে পারেনি। ফলে তাদের একটি বড় অংশকে ১৬ বছর বয়সের পরও এসব বিষয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে হবে।
বর্তমান ব্যবস্থায় ইংল্যান্ডে ইংরেজি ও গণিতে গ্রেড ৪-কে সাধারণ পাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যারা এই গ্রেড অর্জন করতে পারে না, তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে সাধারণত GCSE পুনরায় দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, এই পুনঃপরীক্ষায় সাফল্যের হার খুবই কম। ২০২৬ সালে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতে মাত্র ১৩.৬ শতাংশ এবং ইংরেজিতে ১৮.৮ শতাংশ গ্রেড ৪ বা তার বেশি পেয়েছে।
এই বাস্তবতার মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল এমন একটি নতুন ‘stepping stone’ যোগ্যতার কথা জানিয়েছেন, যা শিক্ষার্থীদের সরাসরি একই GCSE বারবার দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় ইংরেজি ও গণিতের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেবে। সরকারের লক্ষ্য, যারা প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতিতে পিছিয়ে পড়ছে তাদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত সেতু তৈরি করা।
তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়েও আপত্তি রয়েছে। শিক্ষা খাতের নেতাদের একাংশের মতে, নতুন কোনো যোগ্যতা চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের আশঙ্কা, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘দুই স্তরের’ ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে—যেখানে কিছু শিক্ষার্থী পূর্ণ GCSE পাবে, আর অন্যরা অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদার বিকল্প যোগ্যতার দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।
স্কুল নেতাদের সংগঠন NAHT-সহ বিভিন্ন মহল দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, গ্রেড ৪ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের একই পরীক্ষা বারবার দিতে বাধ্য করার নীতি কার্যকর নয়। তাদের মতে, এতে অনেক তরুণ নিজেদের ‘ব্যর্থ’ মনে করতে শুরু করে এবং শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এমনকি শিক্ষাক্ষেত্রের গবেষণাতেও দেখা গেছে, একই GCSE বারবার দেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে হতাশাজনক। বিশেষ করে যাদের প্রথম ফলাফল গ্রেড ১ বা ২-এর মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যে গ্রেড ৪-এ পৌঁছানোর চাপ বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। বিকল্প যোগ্যতা, দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক পথের পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিক্ষার্থীদের ওপর এই চাপের আরেকটি দিকও উঠে এসেছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ইংরেজি ও গণিতে গ্রেড ৪ পাওয়ার চাপকে অতিরিক্ত মনে করে। অনেক শিক্ষার্থী একই বিষয় বারবার পড়াকে পিছিয়ে যাওয়ার মতো মনে করে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে এবারের বিতর্ক শুধু ‘ফেল করলে আবার পরীক্ষা’ নিয়ে নয়; প্রশ্ন উঠেছে, একটি পরীক্ষার গ্রেড দিয়ে একজন তরুণের সক্ষমতা কতটা নির্ধারণ করা উচিত। ইংরেজি ও গণিতে মৌলিক দক্ষতা যে ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু সেই দক্ষতা অর্জনের পথ সবার জন্য একই হওয়া উচিত কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
সরকারের প্রস্তাবিত ‘stepping stone’ যোগ্যতা সেই প্রশ্নের একটি সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে। তবে শিক্ষা নেতাদের দাবি, নতুন পরীক্ষার ব্যবস্থা নয়, বরং এমন একটি শিক্ষাপদ্ধতি দরকার যেখানে দুর্বল শিক্ষার্থীকে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত না করে তার অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কারণ একই পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হওয়ার চেয়ে একজন শিক্ষার্থীকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়াই হয়তো তাকে শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের দক্ষ করে তোলার কার্যকর পথ।