এখন থেকে ইউরোপের এক দেশে নিবন্ধিত হলে অন্য দেশে আশ্রয় পাওয়া যাবে না

এখন থেকে ইউরোপের  এক দেশে নিবন্ধিত হলে অন্য দেশে আশ্রয় পাওয়া যাবে না

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২২ ফেব্রুয়ারি: অতি সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক দেশে নিবন্ধিত হলে অন্য কোনো ইইউ দেশে নতুন করে আশ্রয়ের আবেদন আর করা যাবে না। অন্য দেশে আবেদন করলে তাকে সরাসরি প্রথম নিবন্ধিত দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

এই ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ নেতাদের বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইইউ নেতারা বলছেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিবাসীদের অনিয়মিত স্থানান্তর বন্ধ করা। পাশাপাশি আশ্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।

ইইউ কমিশন জানিয়েছে, একই ব্যক্তি একাধিক দেশে আবেদন করে সিস্টেমে চাপ সৃষ্টি করছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কোন দেশের ওপর দায়িত্ব থাকবে, তা স্পষ্ট হবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে। ইইউ এই দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও বলছে। আবার অনেকে প্রথমে ইতালি, গ্রিস ইত্যাদি দেশে এসে উঠে সাঁতরে। তারপর এসব দেশে স্থায়ী হয়ে ইংল্যান্ড বা জার্মানীর মতো অধিকতর উন্নত দেশে এসে ভিড় করে। বিশেষ করে এদের বেশিরভাগেরই টার্গেট থাকে ইউকে আসার। ফলে ইউকে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করেই ইউরোপের সকল দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

মানবাধিকার সংস্থাগুলো নতুন নীতিকে কঠোর ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, প্রথম প্রবেশকারী দেশগুলোর আশ্রয় ব্যবস্থার মান অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল, তাই জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

নতুন ডাবলিন রেগুলেশন ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির জন্য সময় দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে।