ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে ইংল্যান্ড-ওয়েলসে বিবাহবিচ্ছেদ পিছিয়ে দিচ্ছেন দম্পতিরা
ভয়েস অব রিপোর্ট, ২৪ সেপ্টেম্বর:
বাড়িভাড়া, মর্টগেজ, শিশুদের দেখাশোনার খরচ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু দম্পতি বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। নতুন সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে আইনজীবীদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস—ওএনএসের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২টি বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের দম্পতির বিচ্ছেদ ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৯টি এবং সমলিঙ্গের দম্পতির বিচ্ছেদ ২ হাজার ১২৩টি।
তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালে যেসব বিয়ে বিবাহবিচ্ছেদে শেষ হয়েছে, সেগুলোর গড় স্থায়িত্ব ছিল ১৩ বছর। ১৯৬৩ সালে এ ধরনের পরিসংখ্যান রাখা শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ। বিপরীতে ১৯৮৫ সালে এই গড় ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৯ বছর।
আইনজীবীদের মতে, এর একটি কারণ হতে পারে বিচ্ছেদের পর দুটি আলাদা সংসার চালানোর আর্থিক চাপ। বিশেষ করে বাড়িভাড়া বা মর্টগেজ, শিশুদের দেখাশোনা এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় একসঙ্গে বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কিছু দম্পতি সম্পর্ক ভেঙে গেলেও আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন করছেন না।
এমনকি কিছু আলাদা হয়ে যাওয়া দম্পতি খরচ কমাতে একই বাড়িতে বসবাস চালিয়ে যাচ্ছেন। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে যৌথ সম্পদ ধরে রাখা এবং সংসারের ব্যয় ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হলেও পারিবারিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা ১৯৮০ থেকে ২০০০-এর দশকের শুরুর সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় অনেক কম। ওই সময়ে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত বিচ্ছেদ হয়েছিল।
আইনজীবীরা আরও বলছেন, বিচ্ছেদ মানেই আদালতে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি লড়াই হতে হবে—এমন নয়। মধ্যস্থতা বা মেডিয়েশন এবং আরবিট্রেশনের মতো বিকল্প পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম খরচে ও দ্রুত পারিবারিক আর্থিক বিষয় নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ নতুন পরিসংখ্যান শুধু কতগুলো বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে তার হিসাব দিচ্ছে না; এর সঙ্গে উঠে আসছে আরেকটি সামাজিক বাস্তবতা—কিছু মানুষের কাছে বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত এখন শুধু সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং আবাসন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতারও প্রশ্ন।