তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
ট্রাম্পের আপত্তিতে চ্যাগোস চুক্তি আটকে গেল, সমাধানের চেষ্টা করবেন বার্নহ্যাম
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৪ সেপ্টেম্বর :
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতা বৈঠককে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করলেও চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বৈঠকে ট্রাম্প ব্রিটেনের চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে সরাসরি ‘ভয়াবহ চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেন। তাঁর আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি।
চুক্তি অনুযায়ী, চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও দিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি লিজের মাধ্যমে অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা ছিল। চুক্তিতে ৯৯ বছরের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
কিন্তু ট্রাম্পের আপত্তির কারণে চুক্তির বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, বর্তমান কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া চুক্তিটি কার্যকর করা সম্ভব নয়। মরিশাসকে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত অর্থপ্রদানও আপাতত আটকে রয়েছে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র, মরিশাস ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করবেন। তাঁর ভাষায়, তিনি বিশ্বাস করেন আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান পাওয়া সম্ভব।
তবে ব্রিটিশ সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পরিস্থিতির জটিলতাও স্পষ্ট। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর অবস্থান পরিবর্তন না করলে চুক্তিতে তাৎক্ষণিক অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই কম।
অন্যদিকে বৈঠকের সামগ্রিক পরিবেশ ছিল তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প বার্নহ্যামকে প্রশংসা করে বলেন, তিনি একজন ভালো প্রধানমন্ত্রী হবেন। দুই নেতা যুক্তরাজ্য–যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিবাসন, ইউক্রেন, ইরান ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।
বার্নহ্যামও বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁদের মধ্যে ভালো যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। তবে চ্যাগোস প্রশ্নে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছে—ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইতিবাচক হলেও কৌশলগত ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থ সবসময় এক নয়।
চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভারত মহাসাগরের ৬০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি কৌশলগত অঞ্চল। ১৯৬৫ সালে ব্রিটেন মরিশাস থেকে দ্বীপগুলো আলাদা করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরি তৈরি করে। দিয়েগো গার্সিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ফলে বার্নহ্যামের জন্য প্রথম ট্রাম্প বৈঠকটি একদিকে যুক্তরাজ্য–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ তৈরি করলেও, অন্যদিকে চ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ সামনে এনেছে। এখন নজর থাকবে—ওয়াশিংটনের আপত্তি কাটিয়ে লন্ডন আদৌ মরিশাসের সঙ্গে করা চুক্তিকে নতুন কোনো কাঠামোয় এগিয়ে নিতে পারে কি না।