বাংলাদেশ সংবাদ

ঝুলন্ত মরদেহের একের পর এক ঘটনা, কোথাও হত্যার অভিযোগ, কোথাও আত্মহত্যার ধারণা

ঝুলন্ত মরদেহের একের পর এক ঘটনা, কোথাও হত্যার অভিযোগ, কোথাও আত্মহত্যার ধারণা

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২৪ সেপ্টেম্বর:

দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি থেকে এমরান হোসেন রনি (২৯)-এর মরদেহ উদ্ধারের পর তার স্বজনেরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে সন্দেহ করছেন। অন্যদিকে চাঁদপুরের কচুয়া, নোয়াখালীর কবিরহাট এবং রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হলেও কিছু ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব কোনো ঘটনাতেই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল এমরানের মরদেহ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ফজল হক মিঞার নতুন বাড়ি থেকে বুধবার দুপুরে এমরান হোসেন রনি (২৯)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এমরান চর ফকিরা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিজানুর রহমানের ছেলে

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমরানের স্ত্রী লুৎফুর নাহার আক্তার উর্মি (১৯) অসুস্থ থাকায় গত তিন-চার দিন ধরে তিনি নিজের বাড়িতে না থেকে শ্বশুরবাড়ি ও নানা শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও তিনি মুঠোফোনে নিজের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

এমরানের চাচাতো ভাই জহির রায়হান জানান, সকালে তাদের ফোন করে বলা হয় এমরান মারা গেছেন। পরে সেখানে গিয়ে তারা পুকুরপাড়ের একটি গাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় এমরানের মরদেহ দেখতে পান।

জহির রায়হানের দাবি, ঘটনাস্থলে এমরানের পায়ের জুতা এবং গাছের অবস্থান তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

তবে পুলিশ এখনো হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের কচুয়ায় ইমরান হোসেনের মরদেহ উদ্ধার

এর আগে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার শিলাস্থান গ্রামের কাজী বাড়িতে ১৬ সেপ্টেম্বর ইমরান হোসেন (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইমরান শিলাস্থান গ্রামের রবিউল্লাহর ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগের রাতেও পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন তিনি। পরে রাতের কোনো একসময় বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।

ইমরানের বাবা রবিউল্লাহ বলেন, তার ছেলে স্বাভাবিক ছিলেন এবং ঘটনার আগের রাতেও পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তারা বুঝতে পারছেন না।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি, ব্যক্তিগত ঋণ ও বিভিন্ন দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। তবে এগুলো তার মৃত্যুর কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম আকাশ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নোয়াখালীর কবিরহাটে বিউটি আক্তারের মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজুরগাঁও গ্রামে ১২ সেপ্টেম্বর বিউটি আক্তার (৩৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিউটি আক্তার ছিলেন মাহবুবুল হকের (৪৫) স্ত্রী এবং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের নুর সোনাপুর গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিউটি আক্তার বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়।

তবে বিউটি আক্তারের ছোট ভাই দাবি করেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর তার স্বামী মাহবুবুল হক পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।

কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে একই দিনে দুই মরদেহ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নে ৪ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি ঘটনায় জয়নুদ্দিন শেখ (৭৫)মোহাম্মদ আলী (৫২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পাটকিয়াবাড়ি গ্রামের জয়নুদ্দিন শেখ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগ ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানান। পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে গিয়ে গোয়ালঘরে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

অন্যদিকে বাকশাডাঙ্গী গ্রামের মোহাম্মদ আলী পারিবারিক কলহের পর মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তার স্ত্রী মঞ্জিলা খাতুনের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার পর তিনি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে মঞ্জিলা খাতুন জানালা দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রব তালুকদার জানান, প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনাকেই আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

একাধিক জেলার এসব ঘটনায় কোথাও আত্মহত্যার সম্ভাবনা, কোথাও পারিবারিক সংকটের কথা এবং কোথাও সরাসরি হত্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। কিন্তু ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ঘটনাকেই চূড়ান্তভাবে আত্মহত্যা বা হত্যা হিসেবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না। পুলিশের তদন্ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থলের আলামতই শেষ পর্যন্ত এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।