তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

পূর্ব লন্ডনের ক্যানিং টাউনে ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকি, গভীর রাতে ঘরছাড়া ২১১ পরিবার

পূর্ব লন্ডনের ক্যানিং টাউনে ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকি, গভীর রাতে ঘরছাড়া ২১১ পরিবার

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৩ অক্টোবর:

পূর্ব লন্ডনের  ক্যানিং টাউনে আবাসিক ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় গভীর রাতে প্রায় ২১১টি পরিবারের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে জরুরি ভিত্তিতে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করেছে নিউহ্যাম কাউন্সিল। তবে তাঁরা কবে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ঘটনাটি ঘটে ক্যানিং টাউনের Hoy Street এলাকায়। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪২ মিনিটে একটি আবাসিক ভবনের বিপজ্জনক কাঠামো সম্পর্কে খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে ভবন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, জরুরি সেবাকর্মী ও কাউন্সিল কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তিনটি আবাসিক ভবন নিয়ে উদ্বেগ

নিউহ্যাম কাউন্সিলের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে Sovereign Tower, Centurion Tower এবং St Vincent Court—এই তিনটি আবাসিক ভবনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কাউন্সিল জানিয়েছে, ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ার খবর পাওয়ার পর প্রায় ২১১টি পরিবারের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, দ্য স্ট্যান্ডার্ড-এর প্রতিবেদনে Sovereign Tower ও Centurion Tower-কে সমর্থনকারী কংক্রিটের একটি স্ল্যাবে ফাটল শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত কিছু নথিতে পরিস্থিতিকে জীবনহানির তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে ভবনগুলোর প্রকৃত কাঠামোগত অবস্থা এবং সমস্যার কারণ সম্পর্কে প্রকৌশলীদের চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

রাতের অন্ধকারে ঘর ছাড়তে বাধ্য বাসিন্দারা

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু বাসিন্দাকে বৃহস্পতিবার বিকেলেই কাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে ইমেইল করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে ভবন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

হঠাৎ করে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় অনেক বাসিন্দা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ারও সুযোগ পাননি। কেউ কেউ রাতের পোশাক পরেই বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তাঁদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আশ্রয় ও সহায়তায় নিউহ্যাম কাউন্সিল

নিউহ্যাম কাউন্সিল জানিয়েছে, যেসব বাসিন্দার বিকল্প থাকার ব্যবস্থা নেই, তাঁদের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বিকল্প আবাসনের বিষয়ে ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান Prime Property Management-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র ও আবাসনবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য জন গ্রে জানিয়েছেন, বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাউন্সিল, জরুরি সেবাকর্মী ও ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

কেন ফাটল, ফিরতে পারবেন কবে?

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভবনগুলোর কাঠামোগত সমস্যার কারণ কী এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে ফিরতে কত দিন সময় লাগবে।

২৩ অক্টোবর নিউহ্যাম কাউন্সিল, ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং প্রকৌশলীরা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কাজ করেন। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ফাটলটি কখন তৈরি হয়েছিল, নির্মাণকাজে কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের মেরামত প্রয়োজন—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

লন্ডনের আবাসনসংকটের মধ্যে একসঙ্গে দুই শতাধিক পরিবারকে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়ার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবনগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।