সরকার বেশি কড়াকড়ি করলে উচ্চ আয়ের বিদেশি পেশাজীবীরা ব্রিটেন ছেড়ে চলে যাবে
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক,২৬ মে:
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি যখন দক্ষ কর্মী সংকট, স্বাস্থ্যখাতের চাপ এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে লড়ছে, তখন সরকারের নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ আয়ের বিদেশি পেশাজীবীরাই বরং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যে কম থাকতে আগ্রহী। আর সরকার যদি স্থায়ী বসবাসের পথ আরও কঠিন করে, তাহলে তাদের অনেকেই অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের স্বাধীন অভিবাসন উপদেষ্টা সংস্থা Migration Advisory Committee (MAC) তাদের নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীর যাত্রাপথ বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি আয় করা বিদেশি কর্মীরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখান। গবেষকদের মতে, এই শ্রেণির মানুষের হাতে বৈশ্বিক সুযোগ বেশি থাকে এবং অন্য দেশে চলে যাওয়ার আর্থিক সক্ষমতাও বেশি থাকে।
অন্যদিকে কম আয়ের কর্মীরা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতের কর্মীরা, যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর পরও প্রায় ৯৪ শতাংশ নার্স যুক্তরাজ্যে থেকে যান।
এমন সময়েই সরকার স্থায়ী বসবাস বা “সেটেলড স্ট্যাটাস” পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও উচ্চ করদাতাদের জন্য কিছু ছাড় রাখার কথা বলা হয়েছে, তারপরও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের একটি অংশ নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা খাতের পেশাজীবীদের মধ্যে থাকার হার সবচেয়ে কম। “ন্যাচারাল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স” খাতের মাত্র ৫৭ শতাংশ কর্মী পাঁচ বছর পরও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্বল্পমেয়াদি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সুযোগ।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যুবক অভিবাসীরা বেশি দিন থাকছেন। ৪৫ বছরের নিচে বয়সীদের মধ্যে পাঁচ বছর পরও থাকার হার ৮১ শতাংশ, যেখানে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে তা ৬৫ শতাংশ। গবেষকরা বলছেন, তরুণরা দীর্ঘ সময় কাজ করে কর দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
এছাড়া আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের থাকার হার সবচেয়ে বেশি। বিপরীতে উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও পূর্ব এশিয়ার নাগরিকদের মধ্যে থাকার হার কম। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে লন্ডন সবচেয়ে বেশি অভিবাসী ধরে রাখতে সক্ষম হলেও স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে থাকার হার তুলনামূলক কম।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার একদিকে দক্ষ বিদেশি কর্মী চাইছে, অন্যদিকে তাদের জন্য স্থায়ী ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাজ্য কি নিজের হাতেই নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করছে?