মেসিকে থামানোর মিশনে ইংল্যান্ড, কী হতে পারে জয়ের কৌশল?
স্পোর্টস ডেস্ক | ভয়েস অব পিপল, ১৩ জুলাই:
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন এক ম্যাচে—ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা। একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে নতুন উদ্যমে শিরোপার স্বপ্ন দেখা ইংল্যান্ড। তবে এই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে লিওনেল মেসি।
৩৯ বছর বয়সেও মেসি আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণভোমরা। আগের ম্যাচগুলোতে তিনি শুধু গোলই করেননি, সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করেছেন। তাই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাকে যতটা সম্ভব প্রভাবহীন রাখা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসিকে থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাকে বল পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া। তিনি যখন মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে আক্রমণ সাজানোর সুযোগ পান, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। এজন্য ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডারদের দায়িত্ব হবে তার দিকে যাওয়ার পাসের পথ বন্ধ করা এবং বল পেলেই দ্রুত চাপ সৃষ্টি করা।
তবে শুধু মেসিকে আটকালেই হবে না। বর্তমান আর্জেন্টিনা আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ দল। জুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ কিংবা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ—প্রত্যেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। ফলে ইংল্যান্ডকে পুরো দলকে নিয়েই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
ইংল্যান্ডের অন্যতম শক্তি হলো তাদের গতি। দুই প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ, উইং ব্যবহার এবং ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি করতে পারলে আর্জেন্টিনার রক্ষণ চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে আক্রমণ থেকে দ্রুত রক্ষণে ফেরার ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে ব্যস্ত রাখাই হবে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য।
একই সঙ্গে মাঝমাঠের দখল ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে আর্জেন্টিনা ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে। সেক্ষেত্রে মেসি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। তাই ইংল্যান্ডকে পুরো ম্যাচজুড়ে উচ্চ গতির প্রেসিং বজায় রাখতে হবে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা বরাবরই আত্মবিশ্বাসী দল হিসেবে পরিচিত। কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদের বেশি। অন্যদিকে ইংল্যান্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ভালো খেললেও শিরোপার স্বাদ পায়নি। ফলে এই ম্যাচ তাদের জন্য মানসিক পরীক্ষাও।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইংল্যান্ড নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকতে পারে, আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখে, মাঝমাঠের লড়াই জিতে নেয় এবং মেসিকে স্বাধীনভাবে খেলতে না দেয়, তাহলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল। তবে ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, মেসির মতো খেলোয়াড়কে কখনোই ৯০ মিনিটের আগে হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
সব মিলিয়ে সেমিফাইনালের এই লড়াই শুধু দুই দলের নয়, বরং অভিজ্ঞতা ও উদ্যম, সৃজনশীলতা ও গতি, এবং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও এক রোমাঞ্চকর সংঘর্ষ হতে যাচ্ছে।