তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
ব্রিটেনে ইমিগ্রেশন কড়াকড়ি বাড়ছে: ছয় মাসে ৪,৭৫৬ গ্রেপ্তার, এক বছরে আটক ২২ হাজারের বেশি
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৭ সেপ্টেম্বর : যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজ করা এবং ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই অবৈধ কর্মসংস্থানবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার ৭৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন ক্ষমতায় এক বছরে ২২ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যজুড়ে অবৈধ কর্মসংস্থানবিরোধী ৭ হাজার ২৭০টি অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে ৪ হাজার ৭৫৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় অভিযান ৩১ শতাংশ এবং গ্রেপ্তার ২০ শতাংশ বেড়েছে।
লন্ডনেও অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে রাজধানীতে ১ হাজার ৮১৪টি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় লন্ডনে অভিযান ৪৪ শতাংশ এবং গ্রেপ্তার ৩২ শতাংশ বেড়েছে।
অবৈধ কর্মী নিয়োগের অভিযোগে ১ হাজার ২০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি জরিমানার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে ও ক্যাফে খাতেও অভিযান উল্লেখযোগ্য। এই খাতে জানুয়ারি-জুনে ২ হাজার ১৯৫টি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার ৮০০টি কর্মস্থলে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময়ে ১৭ হাজার ১১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনেও সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ২২ হাজার ৩৭ জনকে ইমিগ্রেশন ক্ষমতায় আটক করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ২ শতাংশ বেশি।
জুন ২০২৬-এর শেষে ইমিগ্রেশন ডিটেনশনে ছিলেন ২ হাজার ১৫২ জন। এক বছর আগের তুলনায় এটি ১৯ শতাংশ বেশি এবং ২০১৮ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশিদের জন্য কী জানা জরুরি
সরকারি পরিসংখ্যানে এসব অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জাতীয়তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই অভিযানে বাংলাদেশিরা কতজন—এমন কোনো সংখ্যা বা দাবি করার সুযোগ নেই। তবে যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বৈধভাবে কাজ করার অধিকার আছে কি না—নিয়োগকর্তার যাচাই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, টেকঅ্যাওয়ে, ক্যাফে, নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস এবং কাজের অনুমতির নথি সঠিক রাখা প্রয়োজন।
একইভাবে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বও বেড়েছে। কোনো কর্মীর বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি না থাকলে শুধু কর্মী নয়, নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধেও বড় অঙ্কের দেওয়ানি জরিমানা হতে পারে।
তবে বৈধ ভিসা, বৈধ কাজের অনুমতি বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার থাকা ব্যক্তিকে এই পরিসংখ্যানের ‘অবৈধ কর্মী’ হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। ইমিগ্রেশন ডিটেনশনের পরিসংখ্যানও আলাদা বিষয় এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন মামলার মানুষ থাকতে পারেন।
ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মূল বার্তা হলো—ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, কাজের অনুমতি ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি হালনাগাদ রাখা এবং কোনো পরিবর্তন হলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদেরও কর্মীদের রাইট-টু-ওয়ার্ক যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব আঞ্চলিক সংগঠিত অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্যে নিউহ্যামের ৪১ বছর বয়সী আদিল খানকে সংগঠিত ইমিগ্রেশন অপরাধের তদন্তে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধলব্ধ সম্পত্তি অর্জন/নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরও দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গ করতে সহায়তার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। চতুর্থ একজন আটক রয়েছেন।