ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

নতুন শ্রমবাজারে নজর, পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য বাংলাদেশ সরকারের

নতুন শ্রমবাজারে নজর, পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য বাংলাদেশ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৯ জুলাই: 

দেশের জনশক্তি রপ্তানিকে আরও বহুমুখী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, ভাষা প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরে ১৫ লাখ এবং আগামী বছরে ২০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি সফল হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি রেমিট্যান্স প্রবাহও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, জাপান, থাইল্যান্ড, মরিশাসসহ বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরির কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজার বিশ্লেষণ, দক্ষ কর্মীর চাহিদা নিরূপণ এবং নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে দেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে (টিটিসি) ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। জাপানি, জার্মান, ইতালিয়ান, রাশিয়ান ও আরবি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতার সনদ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা উচ্চ আয়ের শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সরকার। পাশাপাশি অতীতে বিভিন্ন কারণে বিদেশ যেতে না পারা কর্মীদেরও পর্যায়ক্রমে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কর্মী সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা এবং কম অভিবাসন ব্যয় নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক শ্রমবাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। এতে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং রেমিট্যান্স আয়ের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।