এক বছরে প্রায় দুই লাখ অভিবাসী পেলেন ব্রিটেনে স্থায়ী থাকার অধিকার
ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসে রেকর্ড, নতুন নিয়মের আগে বাড়ল আবেদন
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৯ আগস্ট:
ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। গত এক বছরে প্রায় ২ লাখ অভিবাসী দেশটিতে অনির্দিষ্টকাল থাকার অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পেয়েছেন। এটি গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৮ জন আইএলআর পেয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
এই বৃদ্ধির পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সরকারের প্রস্তাবিত নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ ব্যবস্থাকে। বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক অভিবাসী পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশের জন্য সেই অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ করার প্রস্তাব রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাস শুধু নির্দিষ্ট সময় ব্রিটেনে থাকার ওপর নির্ভর করবে না। কাজ, আয়, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, আইন মেনে চলা এবং সমাজে অবদানের মতো বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।
অর্থাৎ ব্রিটেনে বসবাস করলেই নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে—এমন ব্যবস্থা থেকে সরকার আরও ‘অর্জিত অধিকার’-ভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে যেতে চাইছে।
এই পরিবর্তন বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে কাজ করা অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কে কখন স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন, সেটি পেশা, আয় ও অন্যান্য যোগ্যতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে।
অন্যদিকে সরকারের যুক্তি, স্থায়ী বসবাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা; তাই যারা ব্রিটেনে দীর্ঘমেয়াদি জীবন গড়তে চান, তাদের কাজ, ভাষা শেখা এবং সমাজে অবদানের মাধ্যমে সেই অধিকার অর্জন করা উচিত।
তবে অভিবাসীদের সংগঠনগুলো এর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে কম বেতনের পেশায় কর্মরত মানুষ, নির্দিষ্ট ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে কাজ করা অভিবাসী এবং তাদের পরিবারের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন অভিবাসন নীতির প্রভাব শুধু নতুন আসা মানুষের ওপর নয়, ভবিষ্যতে স্থায়ী হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু পরিবারের ওপর পড়তে পারে।
তাই সরকারের সামনে এখন বড় দায়িত্ব—অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বহু বছর ধরে বৈধভাবে কাজ ও বসবাস করা মানুষের জন্য নিয়মগুলো যেন পরিষ্কার, ন্যায্য এবং বাস্তবসম্মত হয়।
অভিবাসন কমানো আর বৈধ অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করা—দুটি এক বিষয় নয়।