তরুণ কর্মীদের বড় অংশ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন; নিয়োগকর্তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

অসুস্থ না হয়েও ছুটি, বদলে যাচ্ছে ব্রিটেনের কর্মসংস্কৃতি

অসুস্থ না হয়েও ছুটি, বদলে যাচ্ছে ব্রিটেনের কর্মসংস্কৃতি

লন্ডন, ২৯ আগস্ট:
অসুস্থ না হয়েও কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার প্রবণতা ব্রিটেনে তরুণ কর্মীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি—নতুন এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেশটির কর্মসংস্কৃতি, কর্মীদের দায়িত্ববোধ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রজন্মগত পার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Telegraph-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ বছর বা তার কম বয়সী কর্মীদের মধ্যে প্রায় পাঁচজনের চারজন এমন দিন ছুটি নিয়েছেন, যেদিন তারা কাজে যাওয়ার মতো শারীরিকভাবে সক্ষম ছিলেন। ৫৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মীদের তুলনায় তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বিষয়টিকে শুধু তরুণদের দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখলে সমস্যাটির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ, কাজের পরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য—এসব বিষয়ও কর্মীদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রিটেনে তরুণদের একটি অংশ এমন কর্মসংস্কৃতি চাইছেন যেখানে কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সময় ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদের প্রশ্ন—কাজের জায়গায় নমনীয়তা বাড়াতে গিয়ে যদি নিয়মিত অনুপস্থিতি বাড়ে, তাহলে উৎপাদনশীলতা কীভাবে ধরে রাখা হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ককে শুধু ‘ছুটি নেওয়া’ দিয়ে বিচার না করে কেন কর্মীরা কাজে অনাগ্রহী হচ্ছেন, সেটিও বোঝা জরুরি।

কারণ একজন কর্মী নিয়মিত কাজে অনুপস্থিত হলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, তার সহকর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আবার কর্মক্ষেত্র যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, তাহলে কর্মীদের অসন্তোষও বাড়তে পারে।

ব্রিটেনের কর্মবাজারে প্রজন্মগত পরিবর্তন তাই এখন নিয়োগকর্তাদের জন্য নতুন বাস্তবতা। তরুণদের ধরে রাখতে যেমন ভালো কর্মপরিবেশ প্রয়োজন, তেমনি দায়িত্বশীল কর্মসংস্কৃতিও নিশ্চিত করতে হবে।

কাজের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কাজের প্রতি দায়িত্ববোধও গুরুত্বপূর্ণ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্যই হতে পারে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্কৃতির মূল চাবিকাঠি।