ওয়াশিংটনের নীতিতে অসন্তোষ বাড়ছে, ইউরোপের নিজস্ব শক্তির প্রশ্ন সামনে
জার্মানিতে ট্রাম্পবিরোধী হাওয়া, চাপে যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ রাজনীতি
জার্মান প্রতিনিধি, ২৯ আগস্ট:
জার্মানির রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন মহলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা যেমন বাড়ছে, তেমনি ইউরোপের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর দাবিও জোরালো হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা ও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ, ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের ধরন নিয়ে জার্মান সমাজে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচকদের বক্তব্য, ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপের নিজস্ব সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এই অবস্থায় জার্মানির রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ অবস্থানের পক্ষের দল ও গোষ্ঠীগুলোও নানা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাদের সমালোচকেরা বলছেন, ইউরোপের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
তবে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। সামরিক জোট ন্যাটো থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। ফলে বার্লিনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও ইউরোপের নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতা কতটা বাড়ানো যায়।
ইউক্রেন যুদ্ধ এই বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তন ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
জার্মানিতে চলমান বিতর্ক তাই কেবল ট্রাম্পবিরোধী প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো, ন্যাটোর ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই পরিবর্তিত মনোভাব ইউরোপীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইউরোপের বড় অর্থনীতি হিসেবে জার্মানি যদি প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে আরও স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার পথে এগোয়, তাহলে পুরো ইউরোপের কৌশলগত ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে।
অর্থাৎ, বার্লিনের রাস্তায় বা রাজনৈতিক অঙ্গনে যে মার্কিনবিরোধী ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, তার প্রভাব শুধু জার্মানির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রতিধ্বনি শোনা যেতে পারে ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস এবং ন্যাটোর নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও।