ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ব্রিটেনে এক বছরে জব্দ ৭ হাজারের বেশি অবৈধ ই-বাইক
লন্ডন, ২৯ আগস্ট:
ব্রিটেনের রাস্তায় অবৈধ ও পরিবর্তিত ই-বাইকের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত এক বছরে দেশজুড়ে পুলিশ ৭ হাজার ৪৯টি ই-বাইক জব্দ করেছে। আগের বছরের ৩ হাজার ৮৫৮টির তুলনায় জব্দের সংখ্যা বেড়েছে ৮৩ শতাংশ।
পুলিশের কাছে জব্দ হওয়া অনেক ই-বাইক সাধারণ বৈদ্যুতিক সাইকেলের মতো নয়। এগুলোর কিছু পরিবর্তন করে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে আইনসিদ্ধ সীমার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে চলতে পারে। কিছু অবৈধ মডেলের গতি ঘণ্টায় ৭০ মাইলেরও বেশি হতে পারে বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ আইনে বৈধ ই-বাইক বা ইএপিসির বৈদ্যুতিক মোটরের ক্ষমতা সর্বোচ্চ ২৫০ ওয়াট এবং মোটরকে ঘণ্টায় ১৫.৫ মাইল গতিতে সহায়তা বন্ধ করতে হয়। এর বাইরে পরিবর্তিত যানবাহন মোটরসাইকেল বা মোপেডের নিয়মের আওতায় পড়তে পারে এবং তখন নিবন্ধন, কর ও বিমার প্রয়োজন হয়।
সবচেয়ে বেশি ই-বাইক জব্দ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এক বছরে তাদের হাতে ২ হাজার ৩৬৭টি ই-বাইক জব্দ হয়েছে। আরও ১১টি পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাদের জব্দের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
পুলিশের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো অপরাধে এসব দ্রুতগতির বাইকের ব্যবহার। মোবাইল ফোন ছিনতাই, মাদক সরবরাহসহ বিভিন্ন অপরাধে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুবিধার কারণে অবৈধ ই-বাইক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ রয়েছে।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—সব ই-বাইক অবৈধ নয় এবং সব ই-বাইক অপরাধেও ব্যবহৃত হয় না। অফিসে যাতায়াত, খাবার সরবরাহ এবং দৈনন্দিন চলাচলে বৈধ ই-বাইক এখন ব্রিটেনে জনপ্রিয় পরিবহনের একটি মাধ্যম।
সমস্যা তৈরি হচ্ছে মূলত যখন বৈধ বাইককে পরিবর্তন করে অতিরিক্ত শক্তিশালী ও দ্রুতগতির যানবাহনে পরিণত করা হচ্ছে।
এ ধরনের বাইক পথচারীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুতগতি, তুলনামূলক বেশি ওজন এবং অনেক ক্ষেত্রে নীরবে চলার কারণে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ই-বাইকের ব্যবহার বন্ধ করা নয়, বরং অবৈধ পরিবর্তন বন্ধ করাই এখন পুলিশের মূল চ্যালেঞ্জ। বিক্রেতা, অনলাইন মার্কেট এবং অবৈধ কনভার্সন কিটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
পরিবেশবান্ধব এই পরিবহন ব্যবস্থা যেন অপরাধ ও দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের আস্থা হারিয়ে না ফেলে, সে জন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সচেতন করাও জরুরি।