পরীক্ষা কেন্দ্রে বই খুলে লেখার অভিযোগ, মুঠোফোন-সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি
নকলের ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা!
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২৯ আগস্ট:
পরীক্ষার হলে বই খুলে উত্তর লেখার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেছিলেন দুই সাংবাদিক। এরপরই তাঁদের ওপর হামলা, মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখা এবং মুঠোফোন ও সম্প্রচার সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরীক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ ও বিএসএস প্রথম বর্ষের ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন। হামলার পর তাঁরা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে তাঁরা কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে পাঠ্যবই দেখে উত্তর লিখতে দেখেন। বিষয়টি ভিডিও করার সময় তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী তাঁদের ওপর হামলা চালান। পরে তাঁদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
সাংবাদিক তারেক হোসেন বলেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ আগে থেকেই তাঁদের কাছে আসছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তাঁরা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব। তাঁর দাবি, দুই সাংবাদিক মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করেছিলেন এবং টাকা না দিলে কলেজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিচ্ছিলেন। সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সাংবাদিকেরা।
ঘটনার পর মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক রাব্বি আহমেদ গাংনী থানায় মামলা করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি নিয়ে যাওয়া মুঠোফোন ও সরঞ্জাম উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের অভিযোগ যেমন তদন্তের দাবি রাখে, তেমনি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও তাঁদের সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন মূল বিষয়।