২০৫০ সালের দিকে বাংলাদেশ চরম তাপের ঝুঁকিতে: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সতর্ক বার্তা

২০৫০ সালের দিকে বাংলাদেশ চরম তাপের ঝুঁকিতে: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সতর্ক বার্তা

লন্ডন, ৩০ জানুয়ারি: গ্লোবাল উষ্ণায়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ছয়টি দেশ চরম তাপপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী তাপ মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাপন এবং উৎপাদনশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। গবেষকরা বলছেন, যদি বর্তমান জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত থাকে, আগামী ২৫ বছরে চরম তাপে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। ২৬ জানুয়ারি ‘নেচার সাসটেইন্যাবলিটি’ জার্নালে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। 

গবেষকরা ‘কুলিং ডিগ্রি ডেজ’ (CDD) সূচক ব্যবহার করে দেখেছেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করছেন যেখানে বার্ষিক ৩,০০০ সিডিডি-এর বেশি শীতলীকরণের প্রয়োজন। এর ফলে হিটস্ট্রোক, কার্ডিওভাসকুলার চাপ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং নিম্ন আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

চরম তাপে সবচেয়ে বেশি মানুষের বসবাস থাকা দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ,ভারত,নাইজেরিয়া,ইন্দোনেশিয়া,পাকিস্তান এবং ফিলিপাইন। এই দেশগুলোতে দীর্ঘ সময় বিপজ্জনক তাপ মানুষের জীবন ও উৎপাদনশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, শীতলীকরণের অতিরিক্ত ব্যবহার যদি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করে, তাহলে উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার সঙ্গে চরম তাপও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। তবে বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাশ করেছেন, যদি গ্লোবাল উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা যায়, বিপজ্জনক তাপের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।