ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ইংল্যান্ডের অর্ধেক অঞ্চল খরাকবলিত ঘোষণা, টানা তাপপ্রবাহে বাড়ছে পানি সংকট

ইংল্যান্ডের অর্ধেক অঞ্চল খরাকবলিত ঘোষণা, টানা তাপপ্রবাহে বাড়ছে পানি সংকট

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩০ জুলাই:

টানা রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, অস্বাভাবিক কম বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইংল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে খরাকবলিত (ড্রাউট) এলাকা ঘোষণা করেছে দেশটির পরিবেশ সংস্থা (Environment Agency)। বুধবার এ ঘোষণা দেওয়ার পর দেশজুড়ে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের গ্রীষ্মে একের পর এক তাপপ্রবাহ এবং রেকর্ড কম বৃষ্টিপাতের ফলে নদী, খাল ও জলাধারের পানির স্তর দ্রুত নেমে গেছে। অনেক এলাকায় মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে কৃষিজমি, বাগান, বনাঞ্চল এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়তে শুরু করেছে।

লন্ডনসহ দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় সবুজ মাঠ এখন বাদামি রঙ ধারণ করেছে। ঘাস শুকিয়ে যাচ্ছে, অনেক ছোট নদী ও জলাশয়ে পানির প্রবাহ কমে এসেছে। কৃষকেরা শস্য উৎপাদন এবং পশুপালন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

খরা ঘোষণার ফলে অনেক এলাকায় পানি ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাগানে পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া, গাড়ি ধোয়া বা অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা (হোসপাইপ ব্যান) জারি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। কখনও অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা, আবার কখনও দীর্ঘ খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহ—এই পরিবর্তন জলবায়ু সংকটের বাস্তব প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

এদিকে খরার প্রভাব কেবল পানির সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়। অতিরিক্ত শুষ্ক মাটির কারণে রেললাইনের নিচের মাটি সংকুচিত হওয়ায় কিছু এলাকায় ট্রেনের গতি কমিয়ে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্যপ্রাণীর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে; অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে অনেক প্রাণী চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। তাই শুধু স্বল্পমেয়াদি পানি সাশ্রয় নয়, দীর্ঘমেয়াদি জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলাধার সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা এখনই জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় পানি অপচয় বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং পানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ভবিষ্যতের খরা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।