ফ্রান্স উপকূলে একদিনে একাধিক নৌকা ছাড়ার নতুন কৌশল, ট্রাফিকারদের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন
বার্নহামের ‘সাফল্যের’ দাবির পরদিনই চ্যানেলে ৭০০ অভিবাসীর ঢল, ছোট নৌকা সংকট নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ভয়েস অব পিপল নিউজ, ৩০ জুলাই:
যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় (small boats) অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর সরকারি পরিকল্পনা ‘কাজ করছে’ বলে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাবি করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইংলিশ চ্যানেলে আবারও বড় ধরনের অভিবাসী পারাপারের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের উপকূল থেকে শত শত অভিবাসী যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, একদিনেই ৭০০ জনের বেশি মানুষ ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এটি চলতি বছরের ব্যস্ততম দিনগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাবি করেছিলেন, সরকারের পদক্ষেপের কারণে ছোট নৌকায় আসা মানুষের সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে।
তিনি বলেছিলেন, “সংখ্যা ওঠানামা করতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে বছরের হিসাবে নৌকায় পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এটি দেখায় যে পরিকল্পনা কাজ করছে।”
তবে পরদিনের ব্যাপক যাত্রা সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ফ্রান্স উপকূলে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ
বিরোধী দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের একটি সৈকতে অবস্থান করে অভিবাসীদের নৌকায় ওঠার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তার দাবি, একজন ফরাসি কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন, তাদের “হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ” রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শতাধিক অভিবাসী অগভীর পানিতে জড়ো হয়ে একটি অতিরিক্ত বোঝাই রাবারের নৌকায় ওঠার চেষ্টা করে। এ সময় ফরাসি জেন্ডারমারি সদস্যরা কাছাকাছি অবস্থান করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নতুন কৌশলে মানব পাচারকারীরা
কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে মানব পাচারকারীদের নতুন কৌশল। ধারণা করা হচ্ছে, পাচারকারীরা এখন ফ্রান্সের উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে একই সময়ে একাধিক নৌকা পাঠানোর পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সব জায়গায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রায় ৫৭০ জন অভিবাসী ডোভার বন্দরে পৌঁছেছে। রাতেও অন্তত তিনটি নৌকা চ্যানেল অতিক্রম করছিল বলে জানা যায়।
কমে আসা প্রবণতা কি আবার বাড়ছে?
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ওই দিনের মোট সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এত বড় সংখ্যক মানুষের পারাপারের চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল, তা হয়তো আবার পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা, ফ্রান্সের সহযোগিতা এবং মানব পাচার চক্র দমনে সরকারের কৌশল নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
বিরোধীরা বলছে, শুধু সংখ্যা কমার দাবি করলেই সংকটের সমাধান হবে না; কার্যকর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সরকার বলছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ছোট নৌকা পারাপার বন্ধে কাজ চলছে এবং সামগ্রিক প্রবণতা এখনো আগের তুলনায় উন্নতির দিকে।