সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার ।। ভয়েস অব পিপল, ৩০ জুলাই: 

সরকারি মালিকানাধীন একাধিক সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের জন্য গ্রেড-২ মর্যাদায় দেওয়া এসব নিয়োগকে সরকার রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে গতি ফেরানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এতে দলীয়করণ ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাপরিচালকের পদে বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র, দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

নিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, বাংলাদেশ জুট করপোরেশন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা কিন্তু নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া কিংবা দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো নেতাদের মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রশাসনে বিশ্বস্ত ব্যক্তি সংকট এবং আমলানির্ভর ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার বিষয়গুলো এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে।

তবে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে এ ধরনের নিয়োগ সরকারি প্রতিষ্ঠানে তদবির, প্রভাব বিস্তার ও দলীয়করণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এসব নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অন্যদিকে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সরকার এসব পদে বাইরে থেকে নিয়োগ দিতে পারে, তাই নিয়োগে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, এখন দেখার বিষয় হলো—নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মদক্ষতা, সুশাসন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সেবার মান উন্নয়নে কতটা সফল হন।

নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনও দায়িত্ব পালনে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। নতুন দায়িত্বে থেকে তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করে তুলতে কাজ করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগগুলো ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে নাকি রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াবে—সেটি নির্ভর করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর।