ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

সবচেয়ে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত কেয়ার কর্মীদের: প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম

সবচেয়ে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত কেয়ার কর্মীদের: প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, লন্ডন, ৩০ জুলাই: 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, দেশের কেয়ার কর্মীরা সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবিক দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাদেরই সমাজে সবচেয়ে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত, সবচেয়ে কম নয়। বিশেষ করে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তারা যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ এবং তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি।

বুধবার উত্তর লন্ডনের একটি কেয়ার হোমে সামাজিক সেবা সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করতে গিয়ে বার্নহাম নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত তার বাবা বর্তমানে একটি কেয়ার হোমে রয়েছেন। সেখানে কর্মরত কেয়ার কর্মীদের নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অন্যের বাবা কিংবা মায়ের যত্ন নেওয়া সহজ কাজ নয়। তারা যেভাবে আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করেন, তা সত্যিই অসাধারণ। আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের কাজ দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়, সমাজে সবচেয়ে ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত তাদেরই, সবচেয়ে কম নয়।”

বিদেশি কেয়ার কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “অনেকেই অন্য দেশ থেকে এসে আমাদের মানুষের সেবা করছেন। আমি চাই তারা জানুক—আমরা তাদের মূল্য দিই, তাদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং তারা আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে ব্রিটেনের বৃহত্তম সরকারি খাতের শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনিসন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির মহাসচিব আন্দ্রেয়া ইগান বলেন, সামাজিক সেবা সংস্কার নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা এবং কেসি কমিশনের পর্যালোচনা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি বিদেশি কেয়ার কর্মীদের প্রতি সরকারের নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

ইগান বলেন, অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের যুক্তরাজ্য থেকে কার্যত বের করে দেওয়ার মতো নীতি পরিত্যাগ করা উচিত। তারা সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও জটিল চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সেবা দিচ্ছেন। তাদের অবমূল্যায়ন নয়, আরও ভালো বেতন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের ছাড়া বর্তমান কেয়ার ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়বে।

তার এই মন্তব্যকে অনেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই পরিকল্পনার সমালোচনা হিসেবে দেখছেন, যেখানে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) আবেদন করার আগে সর্বোচ্চ ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সরকার সামাজিক সেবা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে কেয়ার কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কর্মজীবনের উন্নয়ন এবং এনএইচএসের সঙ্গে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন কর আরোপের আগে বিদ্যমান ব্যবস্থার অপচয় ও অদক্ষতা কমিয়ে বর্তমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের এই বক্তব্য শুধু সামাজিক সেবা সংস্কারের প্রতিশ্রুতিই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের হাজার হাজার বিদেশি কেয়ার কর্মীর অবদানকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।