“যেখানে সময়ের শব্দে উঠে আসে সত্য”
কলিকালের কলধ্বনি ।। ১৭১।। বিলাতে বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা নাটকের বিবর্তন: ঐতিহ্য, সমাজবাস্তবতা ও রাজনৈতিক চেতনার রূপান্তর”
উৎসর্গ
ব্রিটেনে বাংলা নাট্যচর্চার সেইসব অগ্রদূত ও সংস্কৃতিকর্মীর প্রতি, যাঁদের শ্রম ও ভালোবাসায় প্রবাসে বাংলা নাটকের শিকড় বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে সেই নেপথ্যের মানুষদের, যাঁদের অবদানে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বেঁচে আছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি।

বিলাতে বাংলা নাটকের ইতিহাস কেবল প্রবাসী বাঙালির বিনোদনচর্চার ইতিহাস নয়; এটি অভিবাসন, সাংস্কৃতিক পরিচয়, রাজনৈতিক চেতনা, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং নতুন সমাজে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে লন্ডনের বাঙালি সমাজে বাংলা নাটকের বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, প্রবাসজীবনের সংগ্রাম এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
কোন নাটক কখন মঞ্চস্থ হয়েছিল, কে লিখেছিলেন, কারা অভিনয় করেছিলেন এবং কোথায় নাট্যচর্চা হতো—এসব তথ্য একত্র করলে এই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়। তবে সব নাট্যপ্রযোজনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও সহজলভ্য নয়। তাই নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাট্যচর্চার বিবর্তন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ষাটের দশক: প্রবাসে বাংলা নাটকের ভিত্তি নির্মাণ
ব্রিটেনে বাঙালির উপস্থিতি বিংশ শতাব্দীতে শুরু হয়নি। সমুদ্রযাত্রী ও লাস্কারদের মাধ্যমে বাংলার সঙ্গে ব্রিটেনের যোগাযোগ বহু পুরোনো। তবে ১৯৫০-এর দশক থেকে বাংলাদেশ, বিশেষত সিলেট অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তাঁদের অনেকেই পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, হোয়াইটচ্যাপেল, পপলার ও আশপাশের এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
নতুন দেশে জীবনযাপন, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতার মধ্যেও তাঁরা নিজেদের ভাষা ও ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে বাংলা নাটক।
ষাটের দশকের শেষভাগে বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব লন্ডনে বাংলা নাটক মঞ্চস্থ করত। তাদের প্রযোজনার মধ্যে ছিল Clive of India এবং Siraj-ud-Daulah। পরবর্তী দশকেও সংগঠনটি নাট্যপ্রযোজনা অব্যাহত রাখে। এসব নাটক পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রয়াত অমর বোস।
এই দুটি নাটকের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। রবার্ট ক্লাইভের ভারতীয় উপমহাদেশে ক্ষমতা বিস্তার এবং বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন উপনিবেশবাদ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও বাংলার স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
প্রবাসী বাঙালিরা যখন লন্ডনের মঞ্চে এই ইতিহাস তুলে ধরছিলেন, তখন তাঁরা নিজেদের অতীতকে নতুন দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করছিলেন। এসব নাটকের নির্বাচন থেকে বোঝা যায়, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস প্রবাসী সমাজের সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিল।
তবে এখানে একটি তথ্যগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই দুই নাটকের লন্ডনে মঞ্চস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রযোজনার নাট্যকার, অভিনয়শিল্পীদের পূর্ণ তালিকা এবং প্রদর্শনীর নির্দিষ্ট তারিখ নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে নাটক দুটির রচয়িতার নাম অনুমান করে উল্লেখ করা সমীচীন হবে না।

কোথায় হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান?
পূর্ব লন্ডনের মাইরডল স্ট্রিটে অবস্থিত হোয়াইটচ্যাপেল সেন্টারে লিলি খান ও অন্যদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। এ সময়ের সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে লুৎফর রহমান শাহজাহান, লায়লা হাসি, এম এ রউফ, অবয় খান, মিফতার আলী, আবদুল মালিক, কুতুব উদ্দিন, আসাব আহমেদ, রাজনউদ্দিন জালাল এবং আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ারের নাম পাওয়া যায়।
এসব উদ্যোগের গুরুত্ব ছিল বহুমুখী। নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিরা একত্র হওয়ার সুযোগ পেতেন। ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠত, নতুন অভিবাসীরা কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হতেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতো।

সত্তরের দশক: নিজস্ব নাট্যরচনা ও দ্বিভাষিক প্রযোজনা
সত্তরের দশকে পূর্ব লন্ডনের বাংলা নাট্যচর্চায় সংগঠিত উদ্যোগের পাশাপাশি নিজস্ব নাট্যরচনার দৃষ্টান্তও দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নাম আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ার। তিনি মিতালী আর্টস গ্রুপ নামে একটি নাট্যদল গঠন করেন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, দলটির সঙ্গে হোয়াইটচ্যাপেল আর্টস সেন্টারের সম্পর্ক ছিল। নেসওয়ার নিজেই নাটক লিখতেন ও পরিচালনা করতেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা What About Me, যা ১৯৭৯ সালে মঞ্চস্থ হয়েছিল। নাটকটি বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় পরিবেশিত হয়। অভিনয়ে ছিলেন আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ার, গোলাম মোস্তফা ও ইয়াসমিন।
এই দীর্ঘ সময়ে আবদুল গাফফার চৌধুরী, অমর বসু, আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ার, শামিম আজাদ, শওকত আকবর, গোলাম কবির, উর্মি মাজহার, বাবু, নূরুল ইসলাম, প্রসেনজিৎ দত্ত, মুনিরা পারভীন, সায়েম চৌধুরী, ইয়াসমিন, বুলবুল হাসান, সৈয়দা সায়মা আহমেদ, সৈয়দা সায়মা আহমেদ, লিসা গাজী, তানিকা গুপ্ত, মিতা চৌধুরী প্রমুুখ নাটক পরিচালনায় ও অভিনয়ের সাথে যুক্ত। তবে এঁদের মধ্যে আবুদল গাফফার চৌধুরী, অমর বসু ও অভিনেতা শওকত আকবর প্রয়াত হয়েছেন।
আমি নিজেও ২০০৬-০৭ সালে বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও অভিনেতা সিরাজ হায়দারের ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা নাটক ‘কালের সাক্ষী’ মঞ্চ নাটকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম এবং ‘সাংবাদিক’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম । নাটকটি কমার্শিয়াল রোডের খ্রীষ্টান ষ্ট্রিটের একটি হলে মঞ্চস্থ হয়েছিল এবং হল ভর্তি দর্শক উপভোগ করেছিলেন। এভাবে অনেকে মঞ্চনাটক পরিচালনা ও অভিনয়ে জড়িত ছিলেন এবং আছেন। অনেকের নাম এখন মনে পড়ছে না এবং স্থান সংকুলানের অভাবে সবার নাম লেখা সম্ভব হলো না বিধায় আন্তরিকভাবে দু:খিত।
What About Me নাটকটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব কয়েকটি কারণে বিবেচনাযোগ্য।
প্রথমত, এটি প্রমাণ করে যে সত্তরের দশকের শেষভাগে লন্ডনের বাঙালি নাট্যচর্চা শুধু বাংলাদেশে রচিত নাটক মঞ্চস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রবাসী নাট্যকার নিজেই নাটক লিখে তা মঞ্চে উপস্থাপন করছিলেন।
দ্বিতীয়ত, দ্বিভাষিক নাটক হিসেবে এটি বাংলা ভাষাভাষী দর্শকের পাশাপাশি ইংরেজিভাষী দর্শকের কাছেও পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। অর্থাৎ নাটক তখন কমিউনিটির অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি বৃহত্তর ব্রিটিশ সমাজের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল।
তৃতীয়ত, এ ধরনের উদ্যোগে প্রবাসী জীবনের নিজস্ব অভিজ্ঞতা নাট্যরচনার বিষয় হয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়। যদিও What About Me-এর পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি বা নির্ভরযোগ্য কাহিনি পাওয়া যায়নি, ফলে নাটকটির নির্দিষ্ট বক্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
একই সময়ে দিশারি শিল্পী গোষ্ঠী, আমরা ক'জনা, ঝলক আর্টিস্ট গ্রুপ এবং সেভেন স্টার ড্রামা সোসাইটির মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামও পাওয়া যায়। এসব সংগঠন পূর্ব লন্ডনের বাংলা সাংস্কৃতিক পরিসর বিস্তারে ভূমিকা রেখেছিল। তবে প্রত্যেক দলের নির্দিষ্ট নাটক, প্রতিষ্ঠাবর্ষ, পরিচালক ও প্রদর্শনস্থল সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রয়োজন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ: নাটকের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রবাসী বাঙালির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। স্বাধীনতার প্রশ্ন তখন শুধু একটি ভূখণ্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ছিল না; তা ছিল ভাষা, আত্মপরিচয়, অধিকার ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের Narratives of Time প্রকল্পের বিবরণে বলা হয়েছে, ষাটের দশক থেকে পূর্ব লন্ডনের বাংলা নাটক অভিবাসীদের জন্মভূমির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে জনমত তৈরি ও সমর্থন সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও নাটকের ভূমিকা ছিল। স্বাধীনতার পর নাট্যচর্চার বিস্তার আরও জোরালো হয়।
এখানে নাটকের রাজনৈতিক ভূমিকা বোঝার ক্ষেত্রে একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। সব নাটক সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত হয়নি, আবার সব নাট্যদলও রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কাজ করেনি। বরং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে নাটক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয় এবং মাতৃভাষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা ও জনসচেতনতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।

স্বাধীনতার পর: সংগঠন, নতুন নাট্যপ্রয়াস ও প্রবাসী বাস্তবতা
১৯৭২ সালের পর বাংলা নাট্যচর্চা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমে বিস্তৃত হতে থাকে। ড. আহমেদুল্লাহর উপস্থাপনায় বেঙ্গলি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইয়ুথ মুভমেন্টসহ কয়েকটি সংগঠনের নাট্য কর্মকাণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়। সত্তরের দশকে প্রয়াত অমর বসুর নেতৃত্বে বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের নাট্যচর্চার কথাও বিভিন্ন বিবরণে এসেছে। তবে প্রতিটি দলের প্রযোজনার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, নির্দিষ্ট তারিখ ও ভেন্যু এখনও প্রাথমিক নথি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
এই সময়ের উল্লেখযোগ্য নাট্যপ্রয়াসের একটি হলো ১৯৭৯ সালের ‘What About Me?’। নাটকটির সঙ্গে আশরাফ মাহমুদ নেশওয়ার এবং মিতালি আর্টস গ্রুপের নাম যুক্ত রয়েছে। এটি বাংলা ও ইংরেজি ভাষার ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম এবং বাংলা ভাষাভাষী দর্শকের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে দ্বিভাষিক নাট্যপ্রয়াসের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ছিল।
নাটকটির সঙ্গে হোয়াইটচ্যাপেল আর্টস সেন্টারের সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া গেলেও সুনির্দিষ্ট প্রদর্শনস্থল নিশ্চিত করতে আরও নথি প্রয়োজন। এ ধরনের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নাটকের পরিচিতি, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নাম এবং প্রকৃত মঞ্চায়নের স্থানকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
আশির দশকে পূর্ব লন্ডনের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নাট্যচর্চার পরিসর বিস্তারে ভূমিকা রাখে। ১৯৮৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সুরমা সেন্টারের নাট্য কার্যক্রমের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে এই দীর্ঘ সময়ের প্রতিটি প্রযোজনার নাম, তারিখ ও স্থান আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
নাট্যচর্চার এই বিস্তার শুধু সাংস্কৃতিক বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পূর্ব লন্ডনের শিল্পকারখানার অবক্ষয়, ডক বন্ধ হয়ে যাওয়া, বেকারত্ব, বর্ণবৈষম্য এবং অভিবাসী জীবনের সংকট নাটকের সামাজিক পটভূমি তৈরি করেছিল। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ‘Narratives of Time’ প্রকল্পেও এসব বিষয়কে পূর্ব লন্ডনের বাংলা নাটকের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আশি ও নব্বইয়ের দশক: সমাজবাস্তবতা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়
বিংশ শতাব্দীর শেষ দুই দশকে পূর্ব লন্ডনের বাংলা নাট্যচর্চা আরও বিস্তৃত হয়। এ সময়ের ইতিহাসকে শুধু প্রবাসে বাংলাদেশের নাটক মঞ্চস্থ করার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যাবে না। কারণ এই সময় ব্রিটিশ সমাজে বাঙালির অবস্থান, বর্ণবৈষম্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ঐতিহাসিক প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব লন্ডনের বাংলা নাটকের বিকাশের সঙ্গে স্থানীয় শিল্পকারখানার অবক্ষয়, ডক বন্ধ হয়ে যাওয়া, বেকারত্ব, বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে। মূলধারার ব্রিটিশ নাট্যচর্চার সঙ্গে যোগাযোগও এই বিকাশকে প্রভাবিত করেছে।
এই সামাজিক বাস্তবতা নাটকের জন্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করে। নতুন দেশে অভিবাসীরা কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবেন? তাঁদের সন্তানদের সাংস্কৃতিক পরিচয় কীভাবে গড়ে উঠবে? বর্ণবৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনার অভিজ্ঞতা কীভাবে প্রকাশ পাবে? মাতৃভাষার চর্চা ও ব্রিটিশ সমাজে অংশগ্রহণের মধ্যে সম্পর্ক কী হবে?
সব নাট্যপ্রযোজনায় এসব প্রশ্ন সরাসরি উঠে এসেছে—এমন দাবি করার মতো পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট যে বাংলা নাট্যচর্চা এমন এক সমাজে বিকশিত হচ্ছিল, যেখানে অভিবাসীদের জীবনযাত্রা ও সামাজিক অবস্থান দ্রুত বদলে যাচ্ছিল।
১৯৯৪ সালের ঐতিহাসিক নাটক সিরাজউদ্দৌলা প্রযোজনা
নব্বইয়ের দশকে বাংলার ইতিহাসকে লন্ডনের সাংস্কৃতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পাওয়া যায় ১৯৯৪ সালে।
এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের Cast in Stone গবেষণা প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি-ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকর্মী ইকবাল ওয়াহাব আয়োজিত ১৯৯৪ সালের ফেস্টিভ্যাল অব বাংলাদেশে সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। এর বিষয় ছিল বাংলার সেই নবাবের জীবন, যিনি রবার্ট ক্লাইভের উত্থান ও ঔপনিবেশিক ক্ষমতা বিস্তারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। নাটকটির প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনের স্পিটালফিল্ডস এলাকায়।
এই প্রযোজনার নাট্যকার, পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের পূর্ণ পরিচয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই সেসব তথ্য অনুমান করে সংযোজন করা হয়নি।
তবে প্রযোজনাটির তাৎপর্য অনস্বীকার্য। সিরাজউদ্দৌলার ইতিহাস বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নাটক, সাহিত্য ও রাজনৈতিক স্মৃতির অংশ। সেই ইতিহাস লন্ডনে মঞ্চস্থ হওয়ার অর্থ ছিল, প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকে ব্রিটিশ সমাজের সাংস্কৃতিক পরিসরেও তুলে ধরছিলেন।
১৯৯৭ সালের ২৩ জুন কবি নজরুল সেন্টারে পলাশীর যুদ্ধের ২৪০তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি নাট্যপ্রদর্শনী ছিল না; বরং বাংলার ইতিহাস ও ঔপনিবেশিক অতীত নিয়ে আলোচনার আয়োজন। গবেষণায় এই সম্মেলনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে পলাশীর যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে আরও বৃহত্তর আলোচনার সম্পর্কও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায়, নব্বইয়ের দশকে বাংলা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর নাট্যমঞ্চের বাইরেও বিস্তৃত হচ্ছিল। নাটক, ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা এবং স্মরণানুষ্ঠান—সব মিলিয়ে প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণের একটি বৃহত্তর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল।
নাট্যমঞ্চ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান: কোথায় গড়ে উঠেছিল এই চর্চা?
পূর্ব লন্ডনের বাংলা নাটকের ইতিহাসে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও স্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
হোয়াইটচ্যাপেল সেন্টার: মাইরডল স্ট্রিটে অবস্থিত এই কেন্দ্রে লিলি খান ও অন্যদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের তথ্য রয়েছে।
হোয়াইটচ্যাপেল আর্টস সেন্টার: মিতালী আর্টস গ্রুপের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ছিল। আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ার নাট্যচর্চার ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।
কবি নজরুল সেন্টার: ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পূর্ব লন্ডনের বাঙালি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করে। এখানে বাংলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের বার্ষিকী উপলক্ষেও এখানে সম্মেলন হয়।
ব্রাডি আর্টস সেন্টার: ২০০৩ সাল থেকে A Season of Bangla Drama নিয়মিতভাবেই এখানে মঞ্চস্থ হয়ে আসছে। এ বছরও ১ নভেম্বর থেকে এখানেই শুরু হতে হেচ্ছে মাসব্যাপী নাট্যউৎসব।
কোনো নাট্যদল একটি প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত ছিল বলেই তাদের প্রতিটি নাটক সেখানে মঞ্চস্থ হয়েছিল, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। নির্দিষ্ট প্রযোজনার প্রদর্শনস্থল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নাটকের পোস্টার, অনুষ্ঠানপত্র, সমসাময়িক সংবাদপত্র কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য প্রয়োজন।
২০০৩ সাল: প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের নতুন অধ্যায়
বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে গড়ে ওঠা নাট্যচর্চা একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আরও সংগঠিত সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়। একবিংশ মতাব্দীর প্রথমার্ধে এসেও এ চর্চা অব্যাহত আছে নয়, বরং আরও বেগবান হয়েছে। বিলাতে বেড়ে ওঠা অনেক তরুণ-তরুণী এখন নাট্য চর্চায় স্বপ্রনোদিত হয়ে এগিয়ে আসছেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ২০০৩ সালে বার্ষিক A Season of Bangla Drama আয়োজন শুরু করে। এর ফলে বাংলা নাটক স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মসূচির একটি ধারাবাহিক অংশ হয়ে ওঠে। বেশিরভাগ নাটকই মঞ্চস্থ হয় ব্রাডি আর্টস সেন্টারে। যদিও ২০০৩ সাল বিংশ শতাব্দীর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবু এই উদ্যোগকে আগের কয়েক দশকের সাংস্কৃতিক বিকাশের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ষাটের দশকে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া নাট্যচর্চা, সত্তরের দশকে নিজস্ব নাট্যরচনার বিকাশ এবং আশি-নব্বইয়ের দশকে বিস্তৃত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড—এসবের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল Narratives of Time নামে একটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন পায়। প্রকল্পটির লক্ষ্য ১৯৬৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পূর্ব লন্ডনের বাংলা নাটক, গল্প বলা, নাট্যরচনা এবং কমিউনিটির বিকাশের ইতিহাস নথিবদ্ধ করা। এর আওতায় নাট্যকার, অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালকদের মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহের পাশাপাশি নাটকের পাণ্ডুলিপি, প্রচারপত্র ও অন্যান্য উপাদান সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা থেকেই বোঝা যায়, বিলাতে বাংলা নাটকের ইতিহাস এখনও গবেষণার একটি সক্রিয় ক্ষেত্র। অনেক নাট্যকর্মীর স্মৃতি, পুরোনো পোস্টার, নাটকের পাণ্ডুলিপি এবং সংবাদপত্রের প্রতিবেদন একত্র করা গেলে অতীতের আরও অনেক অনাবিষ্কৃত অধ্যায় সামনে আসতে পারে।
প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি জীবন্ত অধ্যায়
বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে বাংলা নাটকের বিবর্তনকে তিনটি পরস্পর-সম্পর্কিত ধারায় দেখা যায়। প্রথমত, ষাটের দশকে পরিচিত বাংলা নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে মাতৃভাষা ও জন্মভূমির সাংস্কৃতিক স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা। দ্বিতীয়ত, সত্তরের দশকে আশরাফ মাহমুদ নেসওয়ারের What About Me-এর মতো প্রযোজনার মধ্য দিয়ে প্রবাসী নাট্যরচনা ও দ্বিভাষিক পরিবেশনার বিকাশ। তৃতীয়ত, নব্বইয়ের দশকে সিরাজউদ্দৌলার ইতিহাস নিয়ে লন্ডনে নাট্যপ্রযোজনার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলার অতীতকে ব্রিটিশ সাংস্কৃতিক পরিসরে তুলে ধরা।
এই বিবর্তনকে শুধু নাটকের তালিকা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভিবাসীদের সামাজিক জীবন, কর্মসংস্থানের সংকট, বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণের প্রশ্ন।
ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজন
বিলাতে বাংলা নাটকের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এখনও এক জায়গায় সংকলিত হয়নি। অনেক নাটকের নাম বা দলের পরিচয় জানা গেলেও সুনির্দিষ্ট প্রদর্শনীর তারিখ, স্থান, নির্দেশক ও অভিনয়শিল্পীদের তথ্য অসম্পূর্ণ। কোথাও তথ্য এসেছে মৌখিক স্মৃতি থেকে, কোথাও পরবর্তী কোনো উপস্থাপনা থেকে, আবার কোথাও আর্কাইভে সংরক্ষিত নাট্যপুস্তিকা থেকে।
তাই একটি নির্ভরযোগ্য নাট্যঘটনাপঞ্জি তৈরি করা প্রয়োজন। সেখানে প্রতিটি নাটকের নাম, নাট্যকার, নির্দেশক, প্রযোজনা সংস্থা, প্রদর্শনীর তারিখ, ভেন্যু এবং তথ্যের উৎস উল্লেখ থাকা উচিত। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। এতে অনুমান ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকবে।
তবে এই ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে ষাট থেকে নব্বইয়ের দশকের নাট্যদলগুলোর প্রতিষ্ঠাবর্ষ, নাট্যকারদের নাম, নির্দিষ্ট প্রযোজনার শিরোনাম, অভিনয়শিল্পী, প্রদর্শনীর তারিখ ও মঞ্চের ঠিকানা নিয়ে একটি যাচাইকৃত কালানুক্রমিক তালিকা তৈরি করা জরুরি।
কারণ একটি নাটক শুধু তার কাহিনি বা অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নাট্যকারের চিন্তা, পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি, অভিনয়শিল্পীর শ্রম, সংগঠকের উদ্যোগ এবং দর্শকের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা। এই সবকিছুর সমন্বয়েই প্রবাসে বাংলা নাটকের ইতিহাস নির্মিত হয়েছে।
বিলাতে বাংলা নাটক তাই কেবল বিনোদনের ঐতিহ্য নয়; এটি এমন এক জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়ের ইতিহাস, যারা নতুন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েও নিজেদের ভাষা, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে জীবন্ত রাখার চেষ্টা করেছেন।
বিংশ শতাব্দীতে বিলাতে বাংলা নাটকের বিবর্তন মূলত প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় নির্মাণের ইতিহাস। ষাটের দশকে ভাষা ও ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াস থেকে যে নাট্যচর্চার সূচনা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তা রাজনৈতিক চেতনা ও স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাট্যদল ও দ্বিভাষিক নাট্যপ্রয়াসের মাধ্যমে এই ধারা আরও বিস্তৃত হয়। নব্বইয়ের দশকে নাট্যপুস্তিকা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের নথি ভবিষ্যৎ ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই ইতিহাসের মূল্য শুধু কতটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। এর মধ্যে রয়েছে ভাষা রক্ষার সংগ্রাম, জন্মভূমির স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা।
প্রবাসে যাঁরা নিজেদের শ্রম, সময় ও সামর্থ্য দিয়ে বাংলা নাটকের মঞ্চ তৈরি করেছিলেন, তাঁদের অনেকের নাম হয়তো এখনও ইতিহাসের পাতায় যথাযথভাবে স্থান পায়নি। তাঁদের অবদান অনুসন্ধান, নথিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা শুধু নাট্যগবেষকদের দায়িত্ব নয়; এটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সমাজের সাংস্কৃতিক ইতিহাস সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
লেখক: সম্পাদক, কলামিস্ট, বিশ্লেষক, গল্পকার ও সাবেক অধ্যাপক
লন্ডন, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬