কন্ঠশিল্পী ও সাবেক এমপি ড. অনুপ ঘোষালের চিরবিদায়
চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়ে ধূলির ধরা থেকে চলে গেলেন ভারতীয় স্বর্ণকন্ঠী সংগীত শিল্পী ও সাবেক এমপি ড. অনুপ ঘোষাল। তিনি ভারতের কোলকাতায় জন্মগ্রহণ করলেও পুরো উপমহাদেশ তথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে ছিলেন একজন জীবন্ত কিংবদন্তীতুল্য সংগীত শিল্পী।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটায় ভারতের দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত রোগে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সংগীতজগতের সঙ্গে যুক্ত পরিবারেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা অনুপ ঘোষালের। বাবা অমূল্যচন্দ্র ঘোষাল, মা লাবণ্য ঘোষাল। মাকে দেখেই সংগীতজগতের প্রতি অনুরাগ জন্মায় তার।
অনুপ ঘোষাল আশুতোষ কলেজ থেকে মানবিকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ। নজরুলগীতির রূপ ও রসানুভূতি ছিল তার গবেষণার বিষয়।
পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানার শেষদিকে ‘রাজনৈতিক পরিবর্তন’ আন্দোলনের সঙ্গী হন তিনি। ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জি তাকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেন। হুগলির উত্তরপাড়া বিধানসভা আসন থেকে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই জয় পান। পরে আর তৃণমূলের টিকিট পাননি তিনি। ২০১১ সালে অনুপ ঘোষালকে ‘নজরুল স্মৃতি পুরস্কার’ ও ২০১৩ সালে ‘সঙ্গীত মহাসম্মান’ দেওয়া হয়।
মাত্র ১৯ বছর বয়স অনুপ ঘোষাল, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের নজরে পড়েন। ১৯৮০ সালে মুক্তি পায় ‘হীরক রাজার দেশে’। ‘মোরা দুজনায় রাজার জামাই’, ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’, দেখো রে নয়ন মেলে', ‘ভূতের রাজা দিল বর’, 'ও মন্ত্রীমশাই', ‘এসে হীরক দেশে’র মতো গান শোনা যায় অনুপ ঘোষালের কণ্ঠে। এই সিনেমার জন্যই জাতীয় পুরস্কার পান তিনি।
তপন সিন্হা পরিচালিত 'সাগিনা মাহাতো' চলচ্চিত্রে তাঁর গানও অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলা-হিন্দি ছাড়াও একাধিক ভাষায় গান করেছেন দেবব্রত বিশ্বাসের ছাত্র অনুপ ঘোষাল।
তাঁর প্রয়াণের খবর সামনে আসতেই শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকবার্তায় লিখেছেন, “বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও সুরকার ড. অনুপ ঘোষালের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।’