আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চিরতরে বিদায় নিলেন মেসি

মেসির বিদায়ে অশ্রুসিক্ত আর্জেন্টিনা, ‘মৃত্যু পর্যন্ত হৃদয়ে থাকবেন’

মেসির বিদায়ে অশ্রুসিক্ত আর্জেন্টিনা, ‘মৃত্যু পর্যন্ত হৃদয়ে থাকবেন’

খেলাধুলা ডেস্ক, ২ সেপ্টেম্বর:

আর্জেন্টিনার ফুটবলে শেষ হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর তাঁর বিদায়ের খবরে আবেগে ভেসে গেছে পুরো আর্জেন্টিনা।

৩৯ বছর বয়সী মেসি হাতে লেখা একটি চিঠির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান। তাঁর এই ঘোষণার পর সতীর্থ, সাবেক খেলোয়াড়, সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থকদের মধ্যেও নেমে আসে গভীর আবেগ ও শূন্যতার অনুভূতি।

মেসির সতীর্থ ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও জিওভানি লো সেলসোসহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে বিদায় জানান। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা, তাঁর কাছ থেকে শেখা এবং ছোটবেলায় তাঁকে আদর্শ হিসেবে দেখার স্মৃতি।

বুয়েনস আয়ার্সের একটি রাস্তায় মেসিকে বিদায় জানাতে অভিনব আয়োজনও দেখা গেছে। সেখানে একটি লাল টেলিফোন রেখে পথচারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়—মেসির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তাঁরা কী বলতেন। এক ৮৬ বছর বয়সী সমর্থক বলেন, মেসি তাঁকে জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দগুলোর কিছু দিয়েছেন এবং মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি মেসিকে হৃদয়ে ধারণ করবেন।

মেসির বিদায়ের সঙ্গে শুধু একজন ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়, আর্জেন্টিনার একটি প্রজন্মের স্মৃতিও যেন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। গত প্রায় দুই দশকে মেসিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকদের আশা-হতাশা, কান্না ও আনন্দের বড় একটি অংশ তৈরি হয়েছে।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল, পরপর কোপা আমেরিকার হতাশা এবং ২০১৬ সালে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা—সবকিছুর পরও মেসি ফিরে এসেছিলেন। এরপর তাঁর নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা জিতেছে কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর সেই অধ্যায়ের শেষ দৃশ্যটি এসেছে অশ্রুসিক্তভাবে। কোচ লিওনেল স্কালোনির কান্না এবং মাঠে মেসির আবেগঘন মুহূর্ত বুঝিয়ে দিয়েছিল—একটি প্রজন্মের পথচলা শেষের দিকে।

মেসি অবশ্য ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছেন না। ক্লাব পর্যায়ে তিনি ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এবং সেখানেই তাঁর ক্যারিয়ার চালিয়ে যাবেন। বিদায়টা শুধু আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি থেকে।

আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে তাই মেসির বিদায় শুধু একজন তারকার বিদায় নয়। এটি এমন একজন ফুটবলারের বিদায়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি দেশের স্বপ্ন, গর্ব এবং আবেগের অংশ হয়ে ছিলেন। তাঁর ১০ নম্বর জার্সি পরা শিশুদের চোখে এখন সেই গল্পের পরের অধ্যায়ের অপেক্ষা—মেসির পর আর্জেন্টিনার ফুটবলে কে হবে নতুন নায়ক, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে দেশটি।