এপস্টেইন–ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ সরকারে তীব্র ঝড়: দুই ঠিকানায় পুলিশ তল্লাশি শুরু

এপস্টেইন–ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ সরকারে তীব্র ঝড়: দুই ঠিকানায় পুলিশ তল্লাশি শুরু

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক রিপোর্ট, ৭ ফেব্রুয়ারি:

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে পিটার ম্যান্ডেলসনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নতুন নথি প্রকাশের পর ব্রিটেনে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ও লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা ম্যান্ডেলসন এই বিতর্কের জেরে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারকে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছে।

স্টারমার স্বীকার করেছেন—২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময় তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথা জানতেন। তবে তার দাবি, ম্যান্ডেলসন সম্পর্কের গভীরতা ও বিতর্কিত দিকগুলো সম্পর্কে সরকারকে বারবার ভুল তথ্য দিয়েছেন।

নতুন নথিতে আরও বিস্ফোরক তথ্য

মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে—২০০৮ সালে নাবালিকা নির্যাতনের দায়ে এপস্টেইনের দণ্ড হওয়ার পরও ম্যান্ডেলসন তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সচিব থাকাকালে তিনি এপস্টেইনকে বাজার-সংবেদনশীল গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।

ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, ২০১০ সালে ইউরোপীয় ব্যাংকের ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর বেইল-আউট পরিকল্পনা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের পদত্যাগের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য আগাম জানিয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন। ব্যাংক রেকর্ডেও পাওয়া গেছে—এপস্টেইনের পক্ষ থেকে ম্যান্ডেলসন ও তার সঙ্গীর অ্যাকাউন্টে বড় অংকের অর্থ লেনদেনের প্রমাণ।

দুই ঠিকানায় পুলিশ তল্লাশি

ব্রিটিশ মেট্রোপলিটন পুলিশ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে—ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে—

  • একটি ঠিকানা উত্তর লন্ডনের ক্যামডেনে,
  • আরেকটি উইল্টশায়ার এলাকায়

ম্যান্ডেলসন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর উইল্টশায়ারের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।

মেট পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হেইলি সিউয়ার্ট বলেন,
“সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।”

বলা হচ্ছে, তল্লাশির সময় ম্যান্ডেলসন ক্যামডেনের ঠিকানায় উপস্থিত ছিলেন। উইল্টশায়ারের বাড়িতে পুলিশ জোর প্রয়োগ ছাড়াই প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।

স্টারমারের ক্ষমা প্রার্থনা, বিরোধীদের ক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন—ম্যান্ডেলসন তাকে ও তার টিমকে প্রতারিত করেছেন। তিনি সিভিল সার্ভিসকে ম্যান্ডেলসনের সব সরকারি কার্যক্রম এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে বিরোধী দলগুলো স্টারমারের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। কনজারভেটিভ এমপিরা বলছেন—ম্যান্ডেলসনের অতীত জানা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্রদূত করা ছিল “বিবেচনাবোধের চরম ব্যর্থতা”। কেউ কেউ স্টারমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন।

শেষের রহস্য: কেন এতদিন গোপন ছিল এই সম্পর্ক?

এই কেলেঙ্কারি ঘিরে এখনো কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর মিলছে না—

  • ম্যান্ডেলসন কি সত্যিই এপস্টেইনের আর্থিক নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন?
  • সরকার কি আগে থেকেই এসব তথ্য জানত, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছিল?
  • এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত আরও কোনো ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ কি তদন্তের আওতায় আসতে পারেন?
  • আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ম্যান্ডেলসন কেন ২০০৮ সালের পরও এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন?

নথিপত্র ফাঁসের পর লেবার সরকারের নৈতিক অবস্থান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ব্রিটিশ রাজনীতিতে এই ঝড় কত দূর পর্যন্ত যাবে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।