বাংলাদেশ সংবাদ

দেশে বিন্না ঘাস লাগানোর জন্য ৩৪ জনের কমিটি!

দেশে বিন্না ঘাস লাগানোর জন্য ৩৪ জনের কমিটি!

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৯ সেপ্টেম্বর:

দেশের মাটি ক্ষয় ঠেকাতে বিন্না ঘাস লাগানো হবে কি না—এই সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সরকার গঠন করেছে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি। কমিটিতে আছেন আটজন প্রতিমন্ত্রী ও ১৬ জন সচিব।

একটি ঘাসের শিকড় মাটিকে কতটা শক্ত করে ধরে রাখতে পারে, সেটি যাচাই করতে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক শিকড় যে এত গভীরে যাবে, তা হয়তো বিন্না ঘাস নিজেও জানত না!

গত ৫ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা বিভাগ কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। পরিকল্পনা কমিশন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা রয়েছেন এতে।

কমিটির কাজও কম নয়। সড়ক-মহাসড়ক, নদী ও খালের পাড়, বাঁধ, হাওর এবং পাহাড়ি এলাকায় বিন্না ঘাস লাগানো কতটা কার্যকর হবে, কোথায় লাগানো যাবে, প্রতি কিলোমিটারে কত খরচ হবে এবং কতটুকু জায়গা প্রয়োজন—এসব হিসাব করা হবে। তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ি সড়কের ঢাল, লেকের পাড় ও পাহাড়ের পাদদেশও থাকবে পর্যালোচনায়।

অর্থাৎ ঘাস লাগানোর আগে ঘাস নিয়ে সভা হবে, কমিটি হবে, হিসাব হবে, সম্ভাব্যতা যাচাই হবে।

প্রশ্ন হলো, এত বড় আয়োজন কি সত্যিই প্রয়োজন?

বিন্না বা ভেটিভার কোনো নতুন আবিষ্কার নয়। এর গভীর ও ঘন শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে রাখে। বৃষ্টির পানি, ঢেউ ও স্রোতের কারণে ভূমিক্ষয় কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহুদিন ধরে এই ঘাস ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে কাজ হয়েছে।

তাই বিষয়টি নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা অবশ্যই দরকার। কিন্তু সেই কাজের জন্য ৩৪ সদস্যের কমিটি, যার মধ্যে ৮ প্রতিমন্ত্রী ও ১৬ সচিব—এমন কাঠামো দেখে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

সরকারের সমস্যা কি বিন্না ঘাসের শিকড় নিয়ে, নাকি কমিটির শিকড় নিয়ে?

একটি ছোট বিশেষজ্ঞ দল মাঠে গিয়ে মাটি, পানি, ঢাল ও পরিবেশগত পরিস্থিতি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে পারত। সফল হলে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় ঘাস লাগিয়ে ফলাফল দেখা যেত। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী বড় প্রকল্প নেওয়া যেত।

কারণ বাংলাদেশের ভূমিক্ষয় কমিটির অভাবে হচ্ছে না। নদীর পাড় ভাঙছে, পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ছে, বাঁধ ক্ষয়ে যাচ্ছে—সমস্যা মাঠে। সমাধানও শেষ পর্যন্ত মাঠেই করতে হবে।

বিন্না ঘাসের শিকড় যদি মাটি ধরে রাখতে পারে, সেটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। কিন্তু ঘাস লাগানোর সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে যদি এত সভা-কমিটি-প্রতিবেদন লাগে যে বর্ষা চলে যায়, তাহলে ঘাসের আগে কমিটিই আমাদের মাটি ধরে রাখবে!

সরকারের উচিত তাই কমিটি কত বড় হলো, সেটি নয়—কাজ কত দ্রুত ও কত কম খরচে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিশ্চিত করা।

ঘাসের প্রয়োজন হলে ঘাস লাগুক।
ঘাস নিয়ে যেন আরেকটি প্রশাসনিক বন তৈরি না হয়।