আপডেট নিউজ
সিস্টেম ঠিক হলেও কাটেনি ভোগান্তি, ব্রিটেনে বাতিল ১,০০০-এর বেশি ফ্লাইট
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৯ সেপ্টেম্বর:
ব্রিটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটি সন্ধ্যায় ঠিক করা হলেও তার ধাক্কা কাটেনি। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ১,০০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং আরও অসংখ্য ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। অন্তত ১৫টি বিমানবন্দর এই বিপর্যয়ের প্রভাবে পড়েছে।
সমস্যার সূত্রপাত দুপুরের দিকে। ব্রিটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবাদাতা NATS-এর flight data processing system-এ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে বিমান চলাচলের তথ্য প্রক্রিয়াকরণে বিঘ্ন ঘটে এবং প্রথমে ব্রিটেনের প্রধান বিমানবন্দরগুলো থেকে উড্ডয়ন ব্যাপকভাবে কমে যায়। প্রায় চার ঘণ্টা পর NATS ত্রুটির সমাধান করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে সিস্টেমের সমস্যা সমাধান করা হয় এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কিন্তু সিস্টেম সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। কয়েক ঘণ্টার জমে থাকা ফ্লাইটের ব্যাকলগ সামলাতে গিয়ে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হতে থাকে। NATS নিজেই জানিয়েছে, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগছে।
কোন বিমানবন্দর কতটা ক্ষতিগ্রস্ত
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে হিথ্রো ও গ্যাটউইক থেকে। হিথ্রোতে সন্ধ্যার আগেই ৬৬১টি নির্ধারিত আগমনের মধ্যে ৩৮টি বাতিল বা পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। British Airways-ই সেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গ্যাটউইক ছাড়াও স্ট্যানস্টেড, লুটন, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, এডিনবরো, গ্লাসগো, অ্যাবারডিন ও ব্রিস্টলসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটে। স্কটল্যান্ডের এডিনবরো বিমানবন্দরে প্রায় ৬০ শতাংশ ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
FlightAware-এর তথ্য অনুযায়ী, বিকেল পর্যন্ত শুধু ছয়টি বড় বিমানবন্দরেই প্রায় ৪৯০টি departing flight বিলম্বিত এবং ৫২৫টি arrival flight বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছিল।

এয়ারলাইনভিত্তিক ক্ষতি
Ryanair জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
আরেকটি আপডেটেড হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা নাগাদ বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৬২৫ ছাড়িয়েছিল। এর মধ্যে easyJet-এর ২১৮টি, British Airways-এর ১৩২টি, Ryanair-এর ৪১টি, KLM-এর ৩৭টি এবং Eurowings-এর ২২টি ফ্লাইট ছিল।
আজকের সমস্যা, আগামীকালও ভোগান্তি
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা এখন বুধবারের ফ্লাইট সূচি নিয়ে। British Airways জানিয়েছে, আজকের বিপর্যয়ের প্রভাব আগামীকালও চলতে পারে। যাত্রীদের পুনরায় বুকিংয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ NATS-এর কম্পিউটার ব্যবস্থা ঠিক হলেও ব্রিটেনের বিমান চলাচল ব্যবস্থার ‘জ্যাম’ এখনো কাটেনি।
ঘটনাটি ব্রিটেনের বিমান চলাচল অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মাত্র তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে এটি NATS-এর তৃতীয় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়। Ryanair-এর পর Wizz Air-ও NATS-এর ব্যবস্থাপনায় জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। ব্রিটিশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ CAA পূর্ণাঙ্গ ঘটনা প্রতিবেদন চেয়েছে।
আপাতত সমস্যা সমাধান হয়েছে, কিন্তু যাত্রীদের সমস্যা এখনো শেষ হয়নি। আজকের বাতিল ও বিলম্বের প্রভাব আগামীকাল পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।