ব্রিটেন সংবাদ
প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে ব্রিটেনে ৬০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল, হাজারো যাত্রী বিপাকে
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৮ সেপ্টেম্বর:
একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি—আর তাতেই মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য তালগোল পাকিয়ে গেল ব্রিটেনের আকাশপথ। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে সমস্যার কারণে হিথ্রো, গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড ও লন্ডন সিটি বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৬০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন লন্ডনের বিমানযাত্রীরা। দুপুরের পর থেকেই একের পর এক ফ্লাইটের সময় বদলাতে থাকে, কিছু ফ্লাইট বাতিল হয়। শুধু যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্রিটেনমুখী ফ্লাইটও এর প্রভাবে আটকে পড়ে।

ব্রিটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সংস্থা NATS জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর প্রকৌশলীরা তা সমাধানে কাজ করেন। সংস্থার দাবি, ব্রিটেনের আকাশসীমা বন্ধ হয়নি এবং বিমান চলাচল পুরোপুরি থেমেও যায়নি; তবে নিরাপত্তার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়েছে।
সমস্যা ঠিক হওয়ার পরও ভোগান্তি সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়নি। কারণ বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের জট তৈরি হওয়ায় পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর সময়সূচিও এলোমেলো হয়ে যায়। ফলে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এর প্রভাব থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিমান সংস্থা Ryanair জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। সংস্থাটি NATS-এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ জানিয়েছে।
শুধু আজকের সমস্যা নয়
মঙ্গলবারের ঘটনাটি ব্রিটেনের বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৩ সালেও NATS-এর একটি প্রযুক্তিগত সমস্যায় ব্রিটেনজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় হয়েছিল। সে সময় লাখ লাখ যাত্রীর যাত্রাসূচি বিঘ্নিত হয়েছিল।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—একটি উন্নত দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো যদি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটিতেই কয়েক ঘণ্টার জন্য এমন বিশৃঙ্খলায় পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট ঠেকাতে বিকল্প ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত?
মঙ্গলবারের ঘটনা হয়তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু এর শিক্ষা দীর্ঘস্থায়ী: আকাশসীমা খোলা থাকলেই বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকে না; পুরো ব্যবস্থাটির পেছনে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা থাকা equally জরুরি।
লন্ডন থেকে ঢাকা/সিলেটের যাত্রীদের ৫টি জরুরি করণীয়
১. বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের অবস্থা দেখুন
এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে PNR/বুকিং নম্বর দিয়ে ফ্লাইটটি সময়মতো আছে কি না নিশ্চিত করুন। শুধু বিমানবন্দরের পুরোনো সময়সূচির ওপর নির্ভর করবেন না।
২. ফ্লাইট বাতিল হলে নিজে থেকে নতুন টিকিট কিনবেন না
প্রথমে এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে rebooking, rerouting বা refund-এর সুযোগ জেনে নিন। বিশেষ করে ঢাকা বা সিলেটগামী connecting flight থাকলে পুরো যাত্রাপথটি একসঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা করুন।
৩. connecting flight থাকলে বাড়তি সতর্ক থাকুন
লন্ডন থেকে দোহা, দুবাই, আবুধাবি, ইস্তাম্বুল বা অন্য কোনো বিমানবন্দর হয়ে ঢাকা/সিলেট গেলে প্রথম ফ্লাইটের সামান্য বিলম্বও পরের ফ্লাইট মিস করাতে পারে। সংযোগকারী ফ্লাইটের অবস্থাও আলাদাভাবে পরীক্ষা করুন।
৪. বাতিল বা দীর্ঘ বিলম্বের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন
বোর্ডিং পাস, বুকিং কনফার্মেশন, বাতিলের SMS/email, নতুন সময়সূচি এবং প্রয়োজনীয় খরচের রসিদ রেখে দিন। পরে এয়ারলাইনের কাছে ক্ষতিপূরণ বা খরচ ফেরতের দাবি করতে এগুলো প্রয়োজন হতে পারে।
৫. জরুরি যাত্রা হলে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বের হওয়ার আগে সরাসরি এয়ারলাইনের সঙ্গে কথা বলুন
বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রী, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি বা জরুরি পারিবারিক কারণে ঢাকা/সিলেট যেতে হলে বিমানবন্দরে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার বদলে আগে ফোন/অনলাইন চ্যাটে পরিস্থিতি জেনে নিন। ফ্লাইট চললেও ব্যাপক বিলম্ব থাকতে পারে।