বাংলাদেশ সংবাদ

গণসংযোগ শেষে বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যু ছাড়া কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’—কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

গণসংযোগ শেষে বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যু ছাড়া কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’—কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৯ সেপ্টেম্বর:

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দিনভর গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে মারা যান ৫৫ বছর বয়সী এই বিএনপি নেতা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন খোকন। দিনভর প্রচারের সময় প্রার্থিতা নিয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। তখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যু ব্যতীত কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’

সেদিন রাত ৯টার দিকে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা শেষে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, রাত ১২টার দিকে হঠাৎ শরীরে ব্যথা অনুভব করেন খোকন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত ১টার দিকে তাকে সেখানে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ জানা যায়নি।

খোকনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কুমিল্লা উত্তর জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজান তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার গ্রামের বাড়িতে যান।

সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি চান্দিনা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতিতে যেদিন তিনি মাঠে ছিলেন, সেদিনই নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নিজের দৃঢ়তার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাত পেরোনোর আগেই আকস্মিক মৃত্যু থামিয়ে দিল তার সেই নির্বাচনী প্রস্তুতি।