বাংলাদেশ সংবাদ

দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা—দায়টা শেষ পর্যন্ত কার?

দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা—দায়টা শেষ পর্যন্ত কার?

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৯ সেপ্টেম্বর:

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথার ওপর গড়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা সরকারি ঋণ—মার্চ পর্যন্ত হিসাব এমনই। অর্থমন্ত্রী সংসদে এই তথ্য দেওয়ার পর নতুন করে সামনে এসেছে দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতির প্রশ্ন।

অবশ্য এই অঙ্কের অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক নাগরিককে আলাদা করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এটি দেশের মোট সরকারি ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া গড় হিসাব। কিন্তু ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয় রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে, আর সেই অর্থ আসে মূলত জনগণের দেওয়া কর ও অন্যান্য সরকারি রাজস্ব থেকে।

জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মাথাপিছু সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।

ঋণের চাপ কমাতে সরকার রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ে দক্ষতা আনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ঋণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সুদের খরচ। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদ পরিশোধে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো বা সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতে সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ কারণেই সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার সংস্কার, সরকারি সিকিউরিটিজ বাজার আরও কার্যকর করা এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। ভবিষ্যতে অপরিকল্পিত ঋণ ঠেকাতে বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা অনুসরণের কথাও জানানো হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত বড় প্রশ্ন হলো—ঋণ কত নেওয়া হচ্ছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই ঋণ কোথায় যাচ্ছে।

ঋণের অর্থ যদি উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা ভবিষ্যৎ আয় তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ঋণ যদি অনুৎপাদনশীল ব্যয়ে চলে যায়, তাহলে তার সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়তে পারে।

তাই ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকার মাথাপিছু ঋণের হিসাব শুধু একটি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়; এটি রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়, ঋণনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্থিক দায় নিয়ে বড় প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে।