ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

সৌদী থেকে দেশে ফেরার পথে সড়কেই শেষ প্রবাসজীবন

সৌদী থেকে দেশে ফেরার পথে সড়কেই শেষ প্রবাসজীবন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৯ সেপ্টেম্বর:

১৫ বছর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সিলেটের কানাইঘাটের আব্দুল করিম। হাতে ছিল ফেরার টিকিট, বিমানবন্দরে যাওয়ার পথেও ছিলেন তিনি। কিন্তু স্বজনদের কাছে ফেরার আগেই সৌদি আরবের সড়কে থেমে গেল তাঁর জীবন। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও তিন বাংলাদেশি।

সোমবার রাতে রিয়াদ-তায়েফ সড়কের আল-হাওয়িয়াহ এলাকায় একটি ইনোভা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়লে চার বাংলাদেশি নিহত হন। নিহতদের দুজন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা—আব্দুল করিম ও খালিদ।

জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর সৌদি আরবে থাকার পর দেশে ফেরার জন্য জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন আব্দুল করিম। তাঁকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে ও একই গ্রামের খালিদ। দুর্ঘটনায় আব্দুল করিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। খালিদও মারা যান।

নিহত অপর দুজন আমিন মিয়া ও শাহ আলমের বাড়ি মৌলভীবাজার বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর মরদেহ আল-মুইয়্যাহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল হক জানিয়েছেন, নিহত চারজনের মধ্যে দুজন কানাইঘাটের বাসিন্দা।

এদিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

কানাইঘাটে প্রবাসী মৃত্যুর ধারাবাহিকতা

সৌদি আরবের এই দুর্ঘটনা কানাইঘাটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এ উপজেলার অন্তত আটজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জুনে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। জুলাইয়ে সৌদি আরবে আরও একজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়।

প্রবাসে স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করা পরিবারগুলোর কাছে প্রতিটি বিমানযাত্রা তাই শুধু ঘরে ফেরার আনন্দ নয়—কখনো কখনো সেটিই হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তার শেষ প্রহর।