ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

সিরাজগঞ্জে হাইস্কুলে মদ পান করে মাতলামির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

সিরাজগঞ্জে হাইস্কুলে  মদ পান করে মাতলামির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক  বরখাস্ত

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৫ জুলাই:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নুকালী মাল্টিল্যাটারাল (বহুপার্শ্বিক) উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ২ জুলাই পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মদ পান করে অফিসে বসে অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক তার আচরণের ভিডিও ধারণ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলার সময় প্রধান শিক্ষক অসংলগ্নভাবে কথা বলেন এবং টলমল অবস্থায় চলাফেরা করেন। ভিডিওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে তার কথোপকথনও ধরা পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের পাশেই তার বাড়ি হওয়ায় পারিবারিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন। এর আগেও তিনি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসেই মদ্যপান ও অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন। তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না বলেও জানান স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলে সাময়িক পরীক্ষায় সময় আমি সকালে পরীক্ষার দায়িত্বে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছিলাম। প্রধান শিক্ষকের অফিসে ঠিক কী হয়েছে তা দেখিনি। তবে একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের চেয়ারে বসে মদ্যপান করেছেন— এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।’

প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন

মদ্যপান করে মাতলামির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বাইরে থেকে মদ্যপান করে বিদ্যালয়ে একটি কাগজ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। তখন ‘‘কিছুটা মাতলামি’’ হয়ে গেছে। পরে আমার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম ও ছোট ভাই নুরুল ইসলাম আমাকে বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেবো।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এ ধরনের অভিযোগ নতুন না হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে এখনও একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ঘটনায় শনিবার (৪ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে জানানো হয় হেডপ্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।। চিঠিতে তার এমপিও স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।