ব্রিটেন সংবাদ
তৃতীয় দিনেও ব্রিটেনের ফ্লাইট বিপর্যয়, NATS প্রধানের কোটি টাকার বোনাস নিয়ে প্রশ্ন
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১০ সেপ্টেম্বর :
ব্রিটেনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের তৃতীয় দিনেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বিমান চলাচল। মূল ত্রুটি মঙ্গলবারই ঠিক করা হলেও বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের বিশাল ব্যাকলগ সামলাতে গিয়ে বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবারের NATS সিস্টেম বিপর্যয়ের পর দুই দিনে ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার যাত্রীর ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে। Heathrow, Gatwick, Manchester-সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
তৃতীয় দিনেও কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বিমান চলাচল বিশ্লেষক সংস্থা Cirium-এর হিসাবে বৃহস্পতিবারের সূচি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার কথা। অর্থাৎ নতুন করে বড় ধরনের সিস্টেম বিপর্যয়ের চেয়ে এখন প্রধান সমস্যা হলো আগের জমে থাকা ফ্লাইট ও যাত্রীদের চাপ সামলানো।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন NATS-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফ। গত বছর তাঁর মোট পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ৭১ হাজার পাউন্ড বোনাস ছিল। বারবার বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের পর এই বিপুল বোনাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিমান সংস্থা ও সমালোচকেরা।
Ryanair-এর প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারি বৃহস্পতিবার রলফের পদত্যাগ দাবি আরও জোরালো করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সর্বশেষ বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে NATS-এর ব্যাখ্যা অসঙ্গত। তাঁর দাবি, Ryanair-কে বলা হয়েছিল একটি ভুল বা অস্বাভাবিক flight plan সমস্যার কারণ, অথচ রলফ পরে বলেছেন এবারের ঘটনা আগের সমস্যাগুলোর মতো নয়। NATS অবশ্য এখনো ও'লিয়ারির সর্বশেষ অভিযোগের জবাব দেয়নি।
অন্যদিকে NATS বলছে, এবারের সমস্যা তাদের flight-processing system-এর একটি আলাদা প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং এটি সাইবার হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ব্রিটিশ সরকারও বিষয়টি তদন্ত করছে। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার NATS-কে এক সপ্তাহের মধ্যে বিপর্যয়ের মূল কারণ জানাতে বলেছেন। একই সঙ্গে Civil Aviation Authority (CAA) স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন শুধু কতগুলো ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তা নয়। ২০২৩ ও ২০২৫ সালের বড় বিপর্যয়ের পরও কেন একই ধরনের আস্থা সংকট আবার তৈরি হলো—এবং এর জন্য দায় ও জবাবদিহি কোথায়?
ব্রিটেনের বিমানযাত্রীরা সেই উত্তরই এখন অপেক্ষা করছেন।