আকাশে ৩০০ ফুট নিচে, পাইলটের টেস্টে গাঁজা—যাত্রীদের ভাগ্যই কি তখন ‘অটোপাইলট’?
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১২ আগস্ট: ফুকেত থেকে নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ মাঝআকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। ভয়াবহ ওই ঘটনার পর উড়োজাহাজটির প্রধান পাইলটের মাদক পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপেও গাঁজা সেবনের প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। রয়টার্সও পরীক্ষার ফল পজিটিভ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 ফ্লাইটে। ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ারবাস A320neo-তে ছিলেন ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু। উড্ডয়নের একপর্যায়ে বিমানটি আকস্মিকভাবে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। রয়টার্সের হিসাবে আহতের সংখ্যা ছিল ১৩ যাত্রী ও চার ক্রু।
তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে—বিমানটি যখন হঠাৎ উচ্চতা হারাচ্ছিল, তখন প্রধান পাইলট ককপিটের নিজের আসনে ছিলেন না বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ওই সময় বিমানটি কো-পাইলট পরিচালনা করছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর দিল্লিতে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। প্রধান পাইলটের প্রথম স্ক্রিনিং পরীক্ষায় ফল ‘নেগেটিভ’ আসেনি। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তার নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও গাঁজা বা মারিজুয়ানার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এই ফল প্রকাশের পর দুই পাইলটকেই সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানতে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তলব করেছে।
ঘটনাটির তদন্ত করছে ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। বিমানটির ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডারও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসও তদন্তে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে তদন্ত সংস্থা এখনো সতর্ক করে বলেছে, সব প্রমাণ বিশ্লেষণ না করে ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। অর্থাৎ পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফল সামনে এলেও সেটিই যে বিমানটির হঠাৎ উচ্চতা হারানোর কারণ—এমন সিদ্ধান্ত এখনই টানা যাচ্ছে না।
ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বলেছেন, বিমান নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একটি যাত্রীবাহী বিমান যখন হাজার হাজার ফুট ওপরে উড়ছে, তখন কয়েক সেকেন্ডের ভুলও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। আর সেই ককপিটের দায়িত্বে থাকা একজন পাইলটের শরীরে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়ার ঘটনায় তাই শুধু একটি ফ্লাইট নয়, পুরো বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরই বড় প্রশ্ন উঠেছে।