ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ ‘প্রক্রিয়াধীন’, জানাল ভারত
ভারত প্রতিনিধি, ১২ আগস্ট : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যেই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
ভারতের এ বক্তব্য আসে ঢাকার পক্ষ থেকে আবারও শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানোর একদিন পর। সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন।
এর আগে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জয়সওয়াল। এর একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য, অন্যটি সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য।
ভারতের আয়োজনে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব, সম্মেলনে গুরুত্ব পেতে পারে।
বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বঙ্গোপসাগরভিত্তিক আঞ্চলিক জোট বিমসটেকে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশিকে ঢাকার কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয় ভারতের মুখপাত্রকে। জয়সওয়াল বলেন, বিষয়টি আইনগত এবং এ নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।