ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
জনসংখ্যা নীতির দেখভাল নেই, উল্টো বাড়ছে বাংলাদেশের জন্মহার
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১২ আগস্ট:
বাংলাদেশে কয়েক দশকের ধারাবাহিক সাফল্যের পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে নারীদের গড় সন্তানসংখ্যা। এর মধ্যেই জনসংখ্যা নীতি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য গঠিত ন্যাশনাল পপুলেশন কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের জরিপে দেখা গেছে, দেশে মোট প্রজনন হার বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ২ দশমিক ৩। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে কমে আসার পর এবারই প্রথম এ সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেল।
অন্যদিকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হারও কমেছে। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের মধ্যে এ হার ২০১৯ সালের ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে।
জনসংখ্যা নীতি বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমন্বয় ও নজরদারির কথা থাকলেও ন্যাশনাল পপুলেশন কাউন্সিলের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০১০ সালে। এরপর দেশে নতুন জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হলেও কাউন্সিল নিয়মিত কার্যক্রমে ফেরেনি।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জন্মহার বাড়তে থাকলে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালে একজন নারীর গড় সন্তানসংখ্যা ছিল ৬ দশমিক ৩। পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে তা ২০১২ সালে ২ দশমিক ৩-এ নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু সেই অগ্রগতি ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকার ২০২৫ সালে নতুন জনসংখ্যা নীতি গ্রহণ করেছে। এতে ন্যাশনাল পপুলেশন কাউন্সিলকে নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নীতি সংশোধনের সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কাউন্সিল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠন শেষ হলে এর বৈঠক আয়োজনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।