ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
সিলেটের রায়নগরে নিজ বাসায় প্রবাসীর মা-বাবা ও গৃহকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
সিলেট প্রতিনিধি, ১২ আগস্ট:
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় এক প্রবাসী দম্পতির মা-বাবা ও তাঁদের গৃহকর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সকালে ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সদস্য আবদুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং তাঁদের গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আবদুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের চার সন্তানই বিদেশে থাকেন—দুজন যুক্তরাজ্যে এবং দুজন যুক্তরাষ্ট্রে। গৃহকর্মী তাহমিনাও তাঁদের সঙ্গে একই বাসায় থাকতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল ৯টার দিকে ওই বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। তবে অসুস্থতার কারণে কেউ চিৎকার করছেন—এমনটা মনে করে তখন কেউ বাসাটিতে যাননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসার দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একটি কক্ষে আবদুস সাত্তার এবং অন্য একটি কক্ষে তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া ও গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ পাওয়া যায়। বাসার দক্ষিণ পাশের একটি দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা পালিয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ওই পথেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর বাসার বিভিন্ন আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা এবং তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্বর্ণালংকারসহ কিছু মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। এ কারণে ঘটনাটি ডাকাতি বা চুরির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে তদন্তে পারিবারিক ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। নিহত পরিবারের মদনমোহন কলেজের সামনে একটি সম্পত্তি রয়েছে, সেটি নিয়ে বিরোধ থাকার তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।
নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া জানান, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকেও তিনি তাঁর মামা-মামির সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপরই তাঁদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা পরিবারের।
ঘটনার কারণ ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাড়িটিকে ঘিরে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সিলেট মহানগর পুলিশের বর্তমান কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জুলাই ২০২৬-এ দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তদন্তের এই পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডটি ডাকাতি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তাই চূড়ান্ত তদন্তের আগে কোনো একটি কারণকে হত্যার নিশ্চিত উদ্দেশ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।