ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
এমপি নাছির চৌধুরীর গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষরের অভিযোগ
সিলেট প্রতিনিধি, ১২ আগস্ট: সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গলায় রামদা ঠেকিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার তাঁর তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিরাই আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ছোট ভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাছির চৌধুরীর সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারী পরিচয়ে দুই ব্যক্তিকে তাঁর কাছে পাঠানো হয়। সেখানে সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হলে তিনি রাজি হননি।
এরপর তাঁর গলায় রামদা ঠেকিয়ে স্বাক্ষর না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাঁর কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, এ সময় নাছির চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে তাঁকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় নাছির চৌধুরীর এক সমর্থক ওয়াকিব হাসান তাঁকে দেখতে বাড়িতে গেলে তাঁকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নাছির চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন আমিরুল ইসলাম, ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং দলিল লেখক মমতাজ বেগম।
দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কাওছার আলম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
তবে মামলায় ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ভয়েস অব পিপল-এর পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। তাই অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে নয়, বাদীপক্ষের করা অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।