ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

পরিবারের কাছ থেকে লুকিয়ে মাটিতে পুঁতেছিলেন ৫ লাখ রুপি, সব খেল উইপোকায়

পরিবারের কাছ থেকে লুকিয়ে মাটিতে পুঁতেছিলেন ৫ লাখ রুপি, সব খেল উইপোকায়

ভারত প্রতিনিধি, ১২ আগস্ট: পরিবারের সদস্যরা যেন টাকা খরচ করে ফেলতে না পারেন, আবার চোরের হাতেও যেন না যায়—এই চিন্তা থেকে জমি বিক্রির ৫ লাখ রুপি মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন ভারতের রাজস্থানের এক কৃষক। কিন্তু নিরাপদে রাখা সেই অর্থই শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য হয়ে দাঁড়াল চরম বিপদের কারণ।

রাজস্থানের বালোটরা জেলার পাচপদরা এলাকার নেওয়াই গ্রামের কৃষক মাঙ্গিলাল মেঘওয়াল জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নিজের জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখেন। স্ত্রী-সন্তানদের কাউকেই জানাননি টাকার কথা।

মাঙ্গিলালের আশঙ্কা ছিল, বাড়িতে টাকা রাখলে চুরি হতে পারে। আবার ছেলেরা জানতে পারলে হয়তো টাকা খরচ করে ফেলবে। তাই ব্যাংকে জমা না রেখে মাটিকেই তিনি নিরাপদ ভল্ট হিসেবে বেছে নেন।

কিন্তু কয়েক মাস পর খামারে ঘর তৈরির প্রয়োজন দেখা দিলে বিপাকে পড়েন তিনি। টাকা তুলতে জমিতে গিয়ে মনে করতে পারেননি ঠিক কোথায় সেটি পুঁতেছিলেন।

১০ বিঘা জমিতে শুরু হয় টাকা খোঁজার অভিযান। অনেক খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করতে বাধ্য হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু তাতেও কোনো ফল মেলেনি।

প্রায় এক বছর পর বর্ষার পানিতে সেই প্লাস্টিকের ব্যাগটি মাটির ওপর ভেসে ওঠে। ব্যাগ খুলে পরিবারটি দেখতে পায়, ৫০০ রুপির অধিকাংশ নোটই উইপোকায় কেটে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।

নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটগুলো নিয়ে অন্তত কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় মাঙ্গিলালের পরিবার পাচপদরার স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) শাখায় যায়। কিন্তু নোটগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করে ব্যাংক কর্মকর্তারা সেগুলো বদলে দিতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে বালোটরার এসবিআইয়ের প্রধান শাখাতেও যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকেও মেলেনি কোনো ইতিবাচক সাড়া।

ফলে জমি বিক্রির ৫ লাখ রুপি হারিয়েই বসেছেন মাঙ্গিলাল। এখন পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের মুখেও পড়েছেন তিনি।

টাকা চুরি হওয়ার ভয় কিংবা সন্তানদের খরচ করে ফেলার আশঙ্কা—কোনোটিই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি। বরং পরিবারের কাছ থেকে টাকা লুকাতে গিয়ে সেটি চলে গেছে এমন এক জায়গায়, যেখানে কোনো পাহারা বা তালা ছিল না—উইপোকার পেটে।

ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল—টাকা যতই গোপনে রাখা হোক, নিরাপদ জায়গায় না রাখলে সেই গোপনীয়তাই একসময় বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।