বাংলাদেশ সংবাদ
সাত মাসে বাংলাদেশের হিসাব: নিরাপত্তা কোথায়, স্বস্তি কোথায়?
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১২ সেপ্টেম্বর :
বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সাত মাস পেরিয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব এখনো এক জায়গায় পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সদর দপ্তর, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বিভিন্ন শিল্প সংগঠন এবং দেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য একত্র করলে একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে আসে।
এই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের সাত মাসে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব অবস্থা কী?
সাত মাসে দুই হাজারের বেশি হত্যা মামলা
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৭৬টি হত্যা মামলা হয়েছে।
মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি হত্যা মামলা হয়েছে।
অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এই সাত মাসের মধ্যে জানুয়ারির পুরো মাস এবং ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখের আগের সময় বিএনপি সরকারের সময় নয়। তাই এই ২ হাজার ৭৬টি সংখ্যাকে সরাসরি বিএনপি সরকারের সাত মাসের হিসাব বলা যাবে না।
বরং এটি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পাওয়া সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি পটভূমি।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে
পুলিশ সদর দপ্তরের একই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ১২ হাজার ৪৪৬টি মামলা হয়েছে।
এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা ৪ হাজার ২৫টি।
আর শিশু ধর্ষণের মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪৮৫টি।
এখানেও এগুলো পুলিশের কাছে নথিভুক্ত মামলা। প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বা কম হতে পারে। কারণ সব ঘটনা থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় না।
ধর্ষণের অন্য হিসাব আরও ভয়াবহ
আইন ও সালিশ কেন্দ্র—ASK-এর সংবাদভিত্তিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ৪০০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৭ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
শুধু জুলাই মাসেই ASK অন্তত ৮১টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনের বয়স ১৮ বছর বা তার নিচে।
এখানে পুলিশের ৪ হাজার ২৫টি ধর্ষণ মামলা এবং ASK-এর ৪০০টি ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ হিসাব করেছে মামলা; ASK সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও সংগৃহীত ঘটনার হিসাব করেছে। তাই দুটি সংখ্যা যোগ করে মোট ধর্ষণের সংখ্যা বলা সাংবাদিকতার দিক থেকে সঠিক হবে না।
গণপিটুনিতে ১৩৪ প্রাণহানি
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও থামেনি।
ASK-এর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন।
অর্থাৎ আদালত ও রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার বাইরে জনতার হাতে প্রাণ হারানোর ঘটনাও বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি বড় সূচক হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৭, আহত প্রায় ৩ হাজার
ASK-এর একই পর্যবেক্ষণ বলছে, প্রথম সাত মাসে ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭৭ জন নিহত এবং ২ হাজার ৯৭৪ জন আহত হয়েছেন।
এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক সংঘাত এখনো বাংলাদেশের জননিরাপত্তার অন্যতম ঝুঁকি।
নারী ও কন্যাশিশু নিহত ৩৪১
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব আরও একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
সংগঠনটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২৫৮ নারী এবং ৮৩ কন্যাশিশু—মোট ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে ৬৩টি হত্যাকাণ্ড ধর্ষণ অথবা ধর্ষণের পর হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
মহিলা পরিষদের এই তথ্য বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এটিও পুলিশের মামলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়।
কারাগারেও ৭১ মৃত্যু
ASK-এর হিসাব অনুযায়ী, বছরের প্রথম সাত মাসে কারা হেফাজতে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুধু জুলাই মাসেই কারাগারে মারা গেছেন ১০ জন।
ঢাকায় ১,২০০ চাঁদাবাজ শনাক্ত
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি বড় প্রশ্ন চাঁদাবাজি।
১৭ জুলাই দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানে প্রকাশিত পুলিশ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৪৫টি থানার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ চাঁদাবাজকে শনাক্ত করা হয়েছে।
এদের মধ্যে ১৯৭ জনের সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮১ জন বিএনপি বা দলটির সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে গোয়েন্দা তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে—৯৪ জন বিএনপি, ৪৪ জন যুবদল এবং ২৬ জন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশ আরও ৩২৯ জনকে চাঁদাবাজদের পৃষ্ঠপোষক বা রক্ষাকারী হিসেবে শনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে ২১৪ জনের বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এগুলো অভিযোগ ও গোয়েন্দা তালিকা; আদালতে প্রমাণিত অপরাধী হিসেবে এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না। বিএনপির পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে দলটিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ৩৫টি চাঁদাবাজির ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযানেও গ্রেপ্তার শত শত
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানও হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মে মাসে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এক মাসে ঢাকায় ৬৫৮ জন কথিত চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই অভিযানে মোট ২ হাজার ৮৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অর্থাৎ একদিকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, অন্যদিকে পুলিশের গোয়েন্দা তালিকায় রাজধানীতেই প্রায় ১ হাজার ২০০ চাঁদাবাজের উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
ঢাকার মিরপুরে একাধিক চক্রের চাঁদাবাজি
৮ সেপ্টেম্বরের ঢাকা ট্রিবিউন-এর অনুসন্ধানে বৃহত্তর মিরপুরে অন্তত পাঁচটি অপরাধী চক্রের চাঁদাবাজির কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগরের ব্যবসা, বাসস্ট্যান্ড, রিকশা গ্যারেজ, রেস্তোরাঁ, বাজার, আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাত থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে একটি চক্রের প্রায় ২ হাজার অনুসারী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার কথা বলা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে হুমকি, গুলি বা হামলার অভিযোগও রয়েছে।
চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে হত্যাও
চাঁদাবাজির ভয়াবহতার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ এসেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে।
ঢাকা ট্রিবিউনের ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রাবাড়ীর একটি অটোরিকশা গ্যারেজের ব্যবসায়ী সাগর খানকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২ লাখ টাকা চাঁদার বিরোধের কথা বলা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীরা গ্যারেজে গিয়ে গুলি চালায়। সাগর নিহত হন এবং তাঁর বন্ধু আহত হন।
এটি কোনো সামগ্রিক পরিসংখ্যান নয়; তবে চাঁদাবাজি কীভাবে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে, তার একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ।
শিল্পে বড় ধাক্কা: ৪০২ পোশাক কারখানা বন্ধ
এবার অর্থনীতির দিকে তাকালে চিত্রটিও স্বস্তিদায়ক নয়।
৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ৪০২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে।
এর মধ্যে BGMEA-এর সদস্য কারখানা ২৮২টি এবং BKMEA-এর সদস্য কারখানা ১২০টি।
তবে এই ৪০২টি কারখানার সবগুলোকে বিএনপি সরকারের সাত মাসের ফল হিসেবে দেখানো যাবে না। কারণ হিসাবটি জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় তিন বছরের। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি, অর্থায়ন ও উৎপাদন ব্যয়সহ একাধিক কারণের কথা বলেছেন।
শুধু কারখানা বন্ধ নয়, চাকরিও গেছে
JusticeMakers Bangladesh in France-এর তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৮০টি পোশাক কারখানার ২০ হাজার ৭৮৩ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।
আর আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ৪৫৭টি পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার হিসাবও ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।
এখানেও সময়সীমা বিএনপি সরকারের সাত মাসের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তাই এই ২ লাখ ৪০ হাজারকে বিএনপি সরকারের আমলে চাকরি হারানো মানুষের সংখ্যা বলা যাবে না। বরং এটি সরকারের সামনে থাকা শিল্প ও কর্মসংস্থানের বড় সংকটের আকার বোঝায়।
শিল্পখাতে আরেকটি সতর্কতা
কারখানা বন্ধ নিয়ে প্রকাশিত সব খবরও যে সঠিক, তা নয়।
আগস্টে কয়েকটি পোশাক কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে বন্ধ হয়েছে বলে খবর প্রকাশের পর BGMEA তা অস্বীকার করে এবং এসব খবরকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে। সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর উৎপাদন চলছিল।
অর্থাৎ কারখানা বন্ধের সংখ্যা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সরকারি ও শিল্প সংগঠনের যাচাই জরুরি।
তাহলে সাত মাসের চিত্র কী বলছে?
১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কে শুধু একটি সংখ্যা দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়।
আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পুলিশের হিসাবে হত্যা মামলা, নারী-শিশু নির্যাতন ও পুলিশের ওপর হামলার মতো কয়েকটি সূচকে উদ্বেগ রয়েছে। ASK-এর হিসাবে ধর্ষণ, গণপিটুনি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখযোগ্য।
চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে ঢাকার ৪৫ থানায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কথিত চাঁদাবাজ শনাক্ত হওয়ার তথ্য এবং পুলিশের তালিকায় ৩৫টি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিস্থিতির গভীরতা দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তারও করেছে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাতে শত শত কারখানা বন্ধ ও হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরি হারানোর তথ্য রয়েছে। তবে এসবের বড় অংশের সময়সীমা বিএনপি সরকারের সাত মাসের চেয়ে দীর্ঘ এবং এর পেছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক কারণ রয়েছে।
তাই এই সাত মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি শুধু “কতজন নিহত?” বা “কতটি কারখানা বন্ধ?” নয়।
প্রশ্ন হলো—ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা কতটা বেড়েছে, ব্যবসা কতটা নিরাপদ হয়েছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা তৈরি হয়েছে?
সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তিন জায়গায়—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজ ও অপরাধী চক্রের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিল্প ও কর্মসংস্থান ধরে রাখা।
কারণ একজন নাগরিকের কাছে রাষ্ট্রের সাফল্যের সবচেয়ে সরাসরি মাপকাঠি হলো—সে নিরাপদ কি না, তার ব্যবসা নিরাপদ কি না এবং তার চাকরিটি নিরাপদ কি না।