২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রিটেনে প্রবেশে নতুন নিয়ম: দ্বৈত নাগরিকদের জন্য বড় ঝুঁকি
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারি:
২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিককে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ব্রিটিশ পাসপোর্ট বহন করতে হবে। অন্যথায় তাদের ফ্লাইট, ফেরি বা ট্রেনে উঠতেই দেওয়া হবে না।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Home Office) জানিয়েছে, নতুন ডিজিটাল বর্ডার সিস্টেম চালুর অংশ হিসেবে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ করে এই পরিবর্তন হাজারো ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিককে বিপাকে ফেলেছে—বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাস করছেন।
নতুন নিয়ম কী?
২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য:
- ব্রিটিশ বা আইরিশ নাগরিক ছাড়া সবাইকে ‘Permission to Travel’ লাগবে
- স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারীদের জন্য ETA (Electronic Travel Authorisation) বাধ্যতামূলক—ফি £16
- কিন্তু দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো বলা হচ্ছে:
- ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছাড়া UK-তে প্রবেশ করা যাবে না
- বিকল্প হিসেবে নিতে হবে Certificate of Entitlement, যার খরচ £589
এই সার্টিফিকেট দ্বিতীয় পাসপোর্টে যুক্ত করতে হয়, এবং এর আবেদন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।
বিদেশে থাকা ব্রিটিশদের ক্ষোভ
জার্মানিতে বসবাসরত এক ব্রিটিশ নারী জানান, তার সন্তানদের ভ্রমণ পরিকল্পনা এখন ঝুলে গেছে।
তিনি বলেন,
“ব্রেক্সিটের পর আবারও আমাদেরকে ‘কল্যাটারাল ড্যামেজ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এত কম সময়ে এমন নিয়ম পরিবর্তন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
স্পেনে ৩০ বছর ধরে থাকা আরেক ব্রিটিশ নারী আরও বড় সমস্যায় পড়েছেন। ব্রেক্সিটের পর তিনি স্প্যানিশ নাগরিকত্ব নিয়েছেন, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী আগের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। এখন ব্রিটিশ পাসপোর্ট দেখালে তার স্প্যানিশ নাগরিকত্ব ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি বলেন,
“আমার মতো হাজারো ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শিশু আছে যারা কখনো ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেয়নি। তাদেরও এখন দ্বৈত নাগরিক হিসেবে আটকে দেওয়া হবে।”
ইতালিয়ান–ব্রিটিশ নাগরিকের দুশ্চিন্তা: “হয়তো দেশে ফিরতেই পারব না”
লন্ডনে জন্ম নেওয়া এক ব্রিটিশ–ইতালিয়ান নাগরিক জানান, তিনি সবসময় ইতালিয়ান পাসপোর্টে ভ্রমণ করেছেন।
আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক থেকে ফেরার কথা, কিন্তু ফেরার তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারির পর। তার কাছে নেই ব্রিটিশ পাসপোর্ট, নেই ETA—ফলে দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা।
তিনি বলেন,
“হঠাৎ ভ্রমণে যেতে হলো, আর এখন ভাবছি—ফিরে আসতেই না পারি।”
সরকারের ব্যাখ্যা
হোম অফিস জানিয়েছে,
“২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সব দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিককে ব্রিটেনে প্রবেশের সময় ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেট অব এন্টাইটেলমেন্ট দেখাতে হবে।”
তাদের দাবি, এটি ডিজিটাল বর্ডার সিস্টেমকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করবে।
সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব
ইউরোপীয় নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘The 3 Million’ বলেছে, £589 ফি অত্যন্ত অযৌক্তিক। তারা কানাডার মতো কম খরচের এককালীন ট্রাভেল অথরাইজেশন চালুর দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের নীতি প্রধান মনিক হকিন্স বলেন,
“যুক্তরাজ্যের কাছে প্রযুক্তি আছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ব্রিটিশ নাগরিকরাই নিজেদের দেশে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হবে।”
ভয়েস অব পিপল এর বিশ্লেষণ
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে:
- বিদেশে বসবাসরত ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিক
- ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শিশু যারা কখনো ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেয়নি
- যারা নাগরিকত্ব পরিবর্তন করেছেন এবং আগের পাসপোর্ট দেখালে নতুন নাগরিকত্ব ঝুঁকিতে পড়বে
নিয়মটি নিরাপত্তা জোরদারের নামে আনা হলেও বাস্তবে এটি হাজারো পরিবারকে আর্থিক ও আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে।