৬২ মিলিয়ন পাউন্ডের হিসাব কোথায়? আপাসেন কেলেঙ্কারিতে চারিটি কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি

৬২ মিলিয়ন পাউন্ডের হিসাব কোথায়? আপাসেন কেলেঙ্কারিতে চারিটি কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি

ভয়েস অব পিপল কমিউনিটি ডেস্ক:  টাওয়ার হ্যামলেটসে দীর্ঘদিন ধরে কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান Apasen-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগে সিইও’র পদত্যাগ, পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক তদন্ত এবং ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনে চারিটি কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

সম্প্রতি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ও বর্তমান কেয়ার কর্মী প্রতিনিধিরা বলেন, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আপাসেনের সঙ্গে চুক্তির ব্যয় ৫ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে বেড়ে ৬২ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছায়। এই বিপুল অর্থ কীভাবে এবং কোথায় ব্যয় হয়েছে, তার স্বচ্ছ ও স্বাধীন ফরেনসিক অডিট প্রয়োজন।

১০ সিনিয়র কর্মকর্তার পদত্যাগ

বক্তাদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ডে কেয়ার ম্যানেজার, হোম কেয়ার ম্যানেজারসহ অন্তত ১০ জন সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের কর্মকাল ছিল ১৫ থেকে ২৫ বছরেরও বেশি। ফাইন্যান্স ম্যানেজারের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

তারা বলেন, এই ধারাবাহিক পদত্যাগ সেবার মান, কর্মপরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিচালনায় প্রভাব ফেলেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্বাধীন তদন্তে যা উঠে এসেছে

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হুইসেলব্লোয়িং অভিযোগের পর London Borough of Tower Hamlets কাউন্সিল PwC-কে স্বাধীন তদন্তের দায়িত্ব দেয়। মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়টি উঠে আসে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবে জালিয়াতি ও ভুলত্রুটির ঝুঁকি বেড়েছে। বক্তারা বলেন, ৬২ মিলিয়ন পাউন্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

আইনি নথি জাল ও ব্যাকডেটিং অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্বাধীন তদন্তে আইনি নথি জাল ও ব্যাকডেট করার ঘটনাও উঠে এসেছে। এক সিনিয়র কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তৎকালীন চেয়ারম্যানকে অপসারণের অভিযোগও তোলা হয়।

এ প্রেক্ষাপটে বক্তারা Charity Commission for England and Wales-এর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাদের মতে, ট্রাস্টি বোর্ডের গঠন ও কার্যক্রম নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন, কারণ বোর্ডের ওপর নির্বাহী পর্যায়ের প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে অভিযোগ

প্রায় ৫০ জন কর্মী সম্মিলিতভাবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল, Care Quality Commission (CQC) এবং চারিটি কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। সেখানে তারা দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মকর্তাদের পদত্যাগের প্রকৃত কারণ এবং পরিচালনাগত স্বচ্ছতা নিয়ে তদন্ত দাবি করেন।

৪০০ কেয়ার কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বর্তমানে আপাসেনে প্রায় ৪০০ কেয়ার কর্মী কাজ করছেন। বক্তারা বলেন, চলমান অনিশ্চয়তায় তাদের চাকরির নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তবে কাউন্সিল জানিয়েছে, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা ও ফ্রন্টলাইন কর্মীদের কর্মসংস্থান রক্ষা তাদের অগ্রাধিকার।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ফরেনসিক তদন্ত এবং চারিটি কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।