টাওয়ার হ্যামলেটসে ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ডের হাউজিং বিনিয়োগ
কমিউনিটি ডেস্ক, ১৮ ফেব্রুয়ারি: লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তাদের মালিকানাধীন আবাসনখাতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। আগামী ১০ বছরে মোট ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৫২০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে কাউন্সিল হাউজিংয়ের মূলধনী উন্নয়নে। লক্ষ্য—সব ভাড়াটিয়াকে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা।
এই কর্মসূচি কাউন্সিলের ডেডিকেটেড হাউজিং ডেভেলপমেন্ট পরিকল্পনার অংশ এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ কাউন্সিল হোমকে ‘ডিসেন্ট হোমস’ মানদণ্ডে উন্নীত করার অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্ত।
বিনিয়োগের খাতভিত্তিক ব্যয়
ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী—
-
২৪০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে ‘ডিসেন্ট হোমস’ কর্মসূচিতে। এর আওতায় আধুনিক রান্নাঘর ও বাথরুম স্থাপন, ডাবল গ্লেজড জানালা বসানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী নতুন ছাদ নির্মাণ করা হবে।
-
২০০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিল্ডিং ও ফায়ার সেফটি উন্নয়নে।
-
৬০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে বড় ধরনের মেরামত ও কাঠামোগত উন্নয়নে, যার মধ্যে লিফট সংস্কার ও পুনঃস্থাপন অন্তর্ভুক্ত।
কাউন্সিল জানিয়েছে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু বাসাবাড়ির মানোন্নয়নই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ও জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে।
মেয়রের প্রতিক্রিয়া
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, এটি বারার ইতিহাসে কাউন্সিল হোম উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তাঁর ভাষায়, এই কর্মসূচি বাসিন্দাদের প্রতি কাউন্সিলের অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং আগামী দশ বছরে আবাসনখাতে একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে, এবং নতুন বিনিয়োগ সেই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাড়িগুলোর উন্নয়নও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান
কাউন্সিল জানিয়েছে, হাউজিং উন্নয়ন কর্মসূচি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। সংশোধিত ক্রয় কৌশলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসা (এসএমই)-এর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
নতুন পরিকল্পনায় একটি বড় ঠিকাদারের ওপর নির্ভর না করে মিশ্র চুক্তিভিত্তিক মডেল গ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। এ মডেলে চারটি এসএমইসহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে, যাতে নমনীয়তা ও জবাবদিহিতা বাড়ে।
কাউন্সিলর কবির আহমেদ, যিনি রিজেনারেশন, ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ও হাউজবিল্ডিং বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য, বলেন—এই মডেল কাউন্সিলকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং কোনো ঠিকাদার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে কাজ অন্য প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন পারফরম্যান্স মনিটরিং পদ্ধতি চালু করে কাজের মান ও সময়সীমা নিশ্চিত করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি আবাসন লক্ষ্য
এই বিনিয়োগ কর্মসূচি বারার ৩৭টি স্থানে সর্বোচ্চ ৩,৩৩২টি নতুন বাড়ি নির্মাণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত। জরুরি মেরামত দ্রুত সম্পন্ন করা, উন্নত জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করা, কাজের মান ও নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রকল্প চলাকালে বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা—এসব লক্ষ্য সামনে রেখেই পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
কাউন্সিলের করপোরেট ডিরেক্টর অব হাউজিং অ্যান্ড রিজেনারেশন ডেভিড জয়েস বলেন, এই বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও নিরাপদ আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ।
সর্বোপরি, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এই উদ্যোগ সামাজিক আবাসন খাতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নিরাপত্তা, আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ভিত্তি স্থাপন করবে।