ব্রিটেন সংবাদ
উত্তর সাগরে খনন অনুমোদন দিলে গ্রিনদের কাছে ৫০ আসন হারাতে পারে লেবার
লন্ডন, ১৯ আগস্ট ২০২৬: উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের অনুমোদন দিলে আগামী নির্বাচনে গ্রিন পার্টির কাছে লেবার পার্টির ৫০টি পর্যন্ত আসন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন দাবি করেছে গ্রিন পার্টির একটি অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেওয়া এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লেবার-গ্রিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ৫০টি আসনের ভোটারদের বড় অংশ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারের আরও দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ চায়।
গ্রিন পার্টির গবেষকেরা এমন ৫০টি লেবার আসন চিহ্নিত করেছেন, যেখানে তুলনামূলক কম ভোটের পরিবর্তনেই গ্রিন প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। এর সঙ্গে Friends of the Earth-এর আসনভিত্তিক জনমত জরিপের তথ্য মিলিয়ে তারা এই হিসাব তৈরি করেছেন।
জরিপে দেখা গেছে, প্রতিটি লেবার-গ্রিন লড়াইয়ের আসনেই অর্ধেকের বেশি ভোটার জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারের আরও দ্রুত পদক্ষেপের পক্ষে। ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৭টিতে দ্রুত পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন ছিল ইংল্যান্ডের সামগ্রিক গড় ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশের সমান বা তার বেশি।
গ্রিন পার্টির ডেপুটি লিডার র্যাচেল মিলওয়ারের দাবি, জলবায়ু নীতিতে লেবার পিছিয়ে গেলে দলটির প্রগতিশীল ভোটারদের একটি অংশ গ্রিন পার্টির দিকে চলে যেতে পারে।
তবে লেবার পার্টি এই বিশ্লেষণকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির এক সূত্র এটিকে গ্রিন পার্টির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, বার্নহ্যাম ক্ষমতায় আসার পর পরবর্তী নির্বাচনে গ্রিন পার্টির সম্ভাব্য আসনসংখ্যার পূর্বাভাস ২০ থেকে কমে সাতটিতে নেমেছে।
উত্তর সাগরে নতুন তেল-গ্যাস প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অবস্থানও এখন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি আগে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার ‘বাস্তববাদী’ অবস্থান নেবে এবং নতুন খননের সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। তাঁর যুক্তি, ব্রিটেন ভবিষ্যতেও তেল ও গ্যাস ব্যবহার করবে; প্রশ্ন হলো, সেই জ্বালানি কোথা থেকে আসবে।
অন্যদিকে, জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি ব্রিটেনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০-এর দশকে যুক্তরাজ্য গ্যাস সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে। উত্তর সাগরের উৎপাদন কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমদানিনির্ভরতাও বাড়ছে।
এদিকে Rosebank ও Jackdaw প্রকল্প নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তও সামনে আসছে। জলবায়ু আন্দোলনকারীরা প্রকল্প দুটির বিরোধিতা করলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার যুক্তিতে এগুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার চাপ রয়েছে।
ফলে উত্তর সাগরে নতুন খনন এখন শুধু জ্বালানি নীতির বিষয় নয়; এটি লেবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জলবায়ু প্রতিশ্রুতি এবং ভোটারদের আস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।