ইংল্যান্ডে শিক্ষাগত বৈষম্য কমাতে নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার

ইংল্যান্ডে শিক্ষাগত বৈষম্য কমাতে নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার

 ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২২ ফেব্রুয়ারি:

ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে দরিদ্র ও সচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত ব্যবধান কমাতে সরকার নতুন সংস্কার পরিকল্পনা আনতে যাচ্ছে। সোমবার প্রকাশিত হতে যাওয়া শ্বেতপত্রে তহবিল বণ্টন থেকে শুরু করে স্কুল পরিচালনার কাঠামো—সবকিছুতেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

সরকার বলছে, এই পরিবর্তনগুলো শিক্ষার্থীর পারিবারিক পটভূমি ও তার শিক্ষাগত সাফল্যের মধ্যে থাকা সম্পর্ক ভাঙতে সাহায্য করবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ, অভিভাবক এবং শিক্ষা–অধিকারকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

অনেক অভিভাবক মনে করছেন, শুধু নীতির পরিবর্তন করলেই হবে না—স্কুলগুলোকে বাস্তবে আরও বেশি সহায়তা দিতে হবে। লন্ডনের এক অভিভাবক বলেন,
“আমার সন্তান ফ্রি স্কুল মিলস পায়, কিন্তু শুধু এই তথ্য দিয়ে তার প্রয়োজন বোঝা যায় না। স্কুলে অতিরিক্ত সহায়তা না বাড়ালে ব্যবধান কমবে কীভাবে?”

উত্তর ইংল্যান্ডের এক শিক্ষক জানান,
“আমরা প্রতিদিন দেখছি, দরিদ্র পরিবারের শিশুরা কতটা পিছিয়ে থাকে। তহবিলের নিয়ম বদলানো ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ না দিলে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিনামূল্যে স্কুলের খাবার পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪৪ শতাংশ জিসিএসই গণিত ইংরেজিতে গ্রেড বা তার বেশি পায়। অন্যদিকে, যারা এই সুবিধার আওতায় নয়, তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ শতাংশ।

অনেকের মতে, এই ব্যবধান শুধু অর্থনৈতিক নয়—এটি মানসিক চাপ, পারিবারিক পরিবেশ, এবং স্কুলের সহায়তার অভাবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বর্তমানে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু নতুন নিয়মে এই তহবিল বাড়বে কি না—এ বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট কিছু বলেনি।

একজন শিক্ষা–অধিকারকর্মী মন্তব্য করেন,
“যদি তহবিল বাড়ানো না হয়, তাহলে নতুন নিয়ম শুধু কাগজে–কলমেই থাকবে। বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসবে না।”  কিছু মানুষ মনে করছেন, শুধু আয়ের ভিত্তিতে তহবিল বরাদ্দ করলে উত্তর–দক্ষিণ বা শহর–গ্রামের বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের শিক্ষা–বিষয়ক মুখপাত্রও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যদিও সমালোচনা আছে, তবুও অনেকেই আশা করছেন—এই সংস্কারগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ইংল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একজন অভিভাবক বলেন,
“আমরা শুধু চাই, আমাদের সন্তানরা সমান সুযোগ পাক। তারা কোথায় জন্মেছে বা তাদের বাবা–মায়ের আয় কত—এসব যেন তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে।”