ব্রিটেন সংবাদ
বার্মিংহামে ২০ মাইল গতিসীমার শহর গড়ার উদ্যোগ, গাড়িচালকদের ক্ষোভ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৬ আগস্ট:
যুক্তরাজ্যের শিল্পবিপ্লবের অন্যতম কেন্দ্র এবং একসময় ব্রিটিশ মোটর শিল্পের প্রাণকেন্দ্র বার্মিংহাম এবার ইংল্যান্ডের প্রথম ‘২০ মাইল গতিসীমার শহর’ হওয়ার পথে এগোচ্ছে। শহরের অধিকাংশ সড়কে ঘণ্টায় ২০ মাইলের বেশি গতিতে গাড়ি চালানো সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসিক এলাকা, স্থানীয় সড়ক এবং শহরের বড় অংশজুড়ে বর্তমান ৩০ মাইল গতিসীমা কমিয়ে ঘণ্টায় ২০ মাইল করা হতে পারে। কাউন্সিলের যুক্তি, কম গতির যান চলাচল সড়ক দুর্ঘটনা কমাবে, পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়াবে এবং শহরকে আরও বাসযোগ্য করে তুলবে।
তবে পরিকল্পনাটির বিরোধীরা বলছেন, এটি শুধু সড়ক নিরাপত্তার উদ্যোগ নয়; বরং ব্যক্তিগত গাড়িচালকদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টির আরেকটি পদক্ষেপ।
সমালোচকদের অভিযোগ, একসময় ব্রিটেনের গাড়ি শিল্পের অন্যতম হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত বার্মিংহামে এখন এমন নীতি নেওয়া হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে শহরটিকে ‘অ্যান্টি-মোটরিস্ট’ বা গাড়িবিরোধী নীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, ব্যাপকভাবে ২০ মাইল গতিসীমা চালু হলে যাতায়াতের সময় বাড়বে, ব্যবসা ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে এবং প্রতিদিন গাড়িতে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষকে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা কর্মীরা বলছেন, একটি শহরের রাস্তা শুধু গাড়ির জন্য নয়। পথচারী, শিশু, বৃদ্ধ, সাইকেল আরোহী এবং প্রতিবন্ধী মানুষ—সবার নিরাপদ চলাচলের অধিকার রয়েছে। তাদের মতে, গাড়ির গতি সামান্য কমলেও প্রাণহানির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
বার্মিংহামের এই পরিকল্পনা তাই এখন কেবল একটি ট্রাফিক নীতির প্রশ্ন নয়। এটি শহরকে কেমন করে সাজানো হবে—গাড়ির গতির জন্য, নাকি মানুষের নিরাপত্তার জন্য—সেই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বার্মিংহাম ইংল্যান্ডের প্রথম শহর হিসেবে প্রায় সর্বত্র ২০ মাইল গতিসীমা চালুর দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। তবে সেই সিদ্ধান্তের আগে শহরের সাবেক মোটর শিল্পের ঐতিহ্য এবং বর্তমান পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনার মধ্যে নতুন এক সংঘাত যে আরও তীব্র হবে, তা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট।